স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, অতীতের ব্যর্থতার জন্য কাউকে শাস্তির আওতায় আনা বড় কথা নয়, বরং বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশ থেকে হাম রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা। শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার প্রথম দিন থেকেই কাজ করছে। আগের সরকারের আমলে সময়মতো টিকা না আসার কারণে যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। আজ সোমবার (২৫ মে) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
টিকা কার্যক্রমে অভাবনীয় সাফল্য
দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকার দ্রুত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় টিকার ব্যবস্থা করেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুরুতে দেশের হামপ্রবণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়, যার সুফল হিসেবে সেখানে এখন সংক্রমণের হার শূন্যে নেমে এসেছে। এরপর সিটি করপোরেশনগুলোতেও এই কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে বিশেষ ক্যাম্পেইন শেষ হলেও নিয়মিত ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) কার্যক্রমের মাধ্যমে যারা এখনো টিকা পায়নি, এমন প্রতিটি শিশুকে খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে দুই কোটির বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ২২ শতাংশ বেশি অর্থাৎ মোট ১২২ শতাংশ।
হামের টিকাদান কার্যক্রমে অতীতের ব্যর্থতা ও জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন:
"অতীতের ব্যর্থতার জন্য যদি দশটা মানুষকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিই আর হাম যদি রোধ করতে না পারি তাহলে কি কোনো লাভ হবে? আমরা যদি শিশুর সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মায়ের বুক ভরা না রাখতে পারি, আমি কি আল্লাহর কাছে রক্ষা পাব ওইটা বলে যে আমি ফাঁসি দিয়েছি? আমাদের প্রথম এবং প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।"
হাসপাতাল পরিদর্শন ও সেবার মান পর্যবেক্ষণ
হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও আজ চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ ও হাম ওয়ার্ডসহ প্রতিটি ওয়ার্ডেই চিকিৎসকেরা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। সারা দেশেই স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসে রাতারাতি সব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে সরকার নিজস্ব সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই অতিরিক্ত চাপ কমাতে পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এক দিনের সফরে সোমবার সকালে কুমিল্লায় পৌঁছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমে ১৩০ শয্যাবিশিষ্ট কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি স্বাস্থ্যসেবার মান, রোগীদের অবস্থা ও হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সাথে কথা বলেন এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিয়ে খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে এক রোগীর স্বজন মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার বিষয়টি নিয়মিত বজায় থাকবে কি না তা জানতে চাইলে, মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিচালককে সব সময় এই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেন। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের দেওয়া খাবারের মান নিজে যাচাই করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এই মান সব সময় ধরে রাখা হয় কি না, সে বিষয়েও নিয়মিত খোঁজখবর রাখার কথা জানান।
পরিদর্শনকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. শাহজাহান, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী (আবু), কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদসহ (ওয়াসিম) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।