ভয়াবহ জ্বালানিসংকটের কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সারা দেশে বড় ধরনের লোডশেডিং করার কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
চাহিদা বনাম উৎপাদন: এক নজরে আজকের পরিস্থিতি
সর্বোচ্চ চাহিদা: ১৭,০০০ মেগাওয়াট (ধরা হয়েছে)।
সম্ভাব্য উৎপাদন: ১৪,০০০ মেগাওয়াট।
সম্ভাব্য ঘাটতি: ৩,০০০ মেগাওয়াট।
জ্বালানিসংকট ও কারিগরি বিভ্রাট
সংবাদ সম্মেলনে ঘাটতির মূল কারণ হিসেবে তীব্র জ্বালানিসংকট ও কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
গ্যাস স্বল্পতা: গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা ১২,১৫৪ মেগাওয়াট হলেও গতকাল উৎপাদন করা গেছে মাত্র ৫,২৭৪ মেগাওয়াট, যা অর্ধেকেরও কম। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, দিনে যেখানে ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন, সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮৫-৯০ কোটি ঘনফুট।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ত্রুটি: আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ, যা ২৬ এপ্রিল উৎপাদনে ফিরতে পারে। এছাড়া বাঁশখালীতে এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিটে বিভ্রাটের কারণে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম আসছে, যা ২৮ এপ্রিল পাওয়া যেতে পারে।
LOADSHEDDING-এর কৌশল: গ্রাম বনাম শহর
লোডশেডিং সমন্বয়ের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে:
ঢাকা লোডশেডিংমুক্ত: ঢাকা শহরকে লোডশেডিংমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গ্রাম ও সেচ কার্যক্রম: গ্রাম এবং শহরের মধ্যে লোডশেডিংয়ের ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বিশেষ করে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ১,৯৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটাতে পারে।