১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:০৩:৩৩ অপরাহ্ন


‘হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না’: বিএনপিকে জামায়াত আমিরের কড়া হুঁশিয়ারি
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৫ ১৫:২৮:৩৯
‘হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না’: বিএনপিকে জামায়াত আমিরের কড়া হুঁশিয়ারি জামায়াতে ইসলামীর আমির বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান


রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ এক বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিএনপির রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ক্ষমতার মোহে বিএনপি এখন পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করেছে। শফিকুর রহমান সরাসরি বিএনপির উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেন যে, তারা হাজার চেষ্টা করলেও কখনো প্রকৃত ‘আওয়ামী লীগ’ হয়ে উঠতে পারবে না, বড়জোর একটি ‘দুর্বল আওয়ামী লীগ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

সমাবেশে জামায়াত আমির অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, দেশে সম্প্রতি দুটি নির্বাচন বা জনমত যাচাই হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রক্রিয়ায় ফলাফল যখন বিএনপির অনুকূলে গেছে, তখন তারা সেটি সানন্দে মেনে নিয়েছে। কিন্তু যখন অন্য একটি ঐতিহাসিক গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, তখন সেই রায়কে বিএনপি অস্বীকার করছে। শফিকুর রহমান একে চরম ‘লজ্জাজনক’ আচরণ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর এই রায় যেদিন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে, সেদিনই বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদের প্রকৃত কবর রচনা হবে।

জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট টেনে জামায়াত আমির বলেন, ছাত্র-জনতা যদি রাজপথে নিজেদের জীবন বিসর্জন না দিত, তবে বিএনপি আজ ক্ষমতার এই তাপ বা সুবিধা উপভোগ করার সুযোগই পেত না। তিনি বিএনপিকে জুলাই বিপ্লবের ‘সুবিধাভোগী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মনে করিয়ে দেন যে, এই গণ-অভ্যুত্থান সফল না হলে বিদেশে অবস্থানরত অনেক নেতার পক্ষেই আজ দেশে ফেরার চিন্তা করাও সম্ভব ছিল না। অথচ এখন তারা সেই বিপ্লবের কারিগর ও সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে অবজ্ঞা করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেদিন থেকে বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে, সেই দিন থেকেই মূলত তারা ফ্যাসিবাদের পথে নিজেদের যাত্রা নিশ্চিত করেছে।

সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন যে, যে বাংলাদেশে থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয় কিংবা নেত্রকোনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর আক্রমণ হয়, সেই বাংলাদেশ কি সাধারণ মানুষ চেয়েছিল? তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে দা, কিরিচ বা কুড়ালের মতো অস্ত্র দেখতে চায় না দেশবাসী, বরং তারা দেখতে চায় খাতা ও কলম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তথাকথিত ‘আদুভাই’ বা বহিরাগতদের ছড়ি ঘোরানোর সংস্কৃতি বন্ধ করার জন্য তিনি আল্টিমেটাম দেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, জুলাই মাস কেবল ২০২৪ সালেই সীমাবদ্ধ ছিল না, যদি প্রয়োজন হয় তবে ফ্যাসিবাদের কবর খুঁড়তে জুলাইয়ের সেই গণজাগরণ প্রতি বছর ফিরে আসবে।

সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন যে, ৫ কোটি মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া সমস্ত আপত্তি বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ইতিমধ্যে খারিজ হয়ে গেছে। জাগপা চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান অভিযোগ করেন যে, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে খোদ সংসদে শহীদদের অপমান করা হচ্ছে। সমাবেশে উপস্থিত শহীদ ফারহান ফাইয়াজ ও জাবির ইব্রাহিমের পরিবারসহ আহত যোদ্ধারা কান্নাভেজা কণ্ঠে অবিলম্বে গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি জানান। সমাবেশে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যারা সমস্বরে রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার ও শহীদদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।