যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার এই মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
গত ১৭ এপ্রিল সকালে সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে নাহিদা এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার দিন সকালে সর্বশেষ তাদের দুজনকে ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। এর বেশ কয়েকদিন পর গতকাল শুক্রবার জামিল লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ। জামিলের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই নাহিদার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর খবরটিই সামনে আসে। নাহিদার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বোনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেন, ফ্লোরিডার পুলিশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই মর্মান্তিক সংবাদটি দিয়েছে।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবেহ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাহিদ হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া হিশাম পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে সে দুজনকেই হত্যা করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি মরদেহ সরিয়ে ফেলার বা গুম করার কাজ করছিল। জাহিদ আরও জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছে যে তার বোনের মরদেহ পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে তারা এখনো কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। তবে নাহিদার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে রক্তের মধ্যে পড়ে থাকা দেহের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছিল, যার সঙ্গে নাহিদার ডিএনএ-র মিল পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর এমন করুণ পরিণতিতে ফ্লোরিডায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তাদের সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃষ্টির মরদেহটি অন্তত খুঁজে পাওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আকুতি জানানো হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ ঘাতকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দ্রুততম সময়ে মরদেহের বাকি অংশ খুঁজে পাওয়া যায় এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়।