কুমিল্লার চাঞ্চল্যকর সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। বুধবার (২২ এপ্রিল) কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১-এর নির্দেশে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর মধ্য দিয়ে এই মামলায় নতুন মোড় আসে। দীর্ঘ এক দশক পর কাউকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে দেখে তনুর বাবা-মা এখন শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাওয়ার জোরালো আশা দেখছেন।
এই গ্রেপ্তারের খবরে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, তারা অত্যন্ত খুশি যে দীর্ঘ ১১ বছর পর হলেও অন্তত একজন আসামিকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন। তিনি আক্ষেপের সুরে জানান, দীর্ঘ এই সময়ে তিনি যেখানেই যেতেন, সাধারণ মানুষ তাকে একটিই প্রশ্ন করত—বিচারের কী হলো? এতদিন তার কাছে কোনো জবাব ছিল না, কিন্তু এখন তিনি মানুষকে বলতে পারবেন যে অন্তত একজন ধরা পড়েছে। তিনি আদালতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা পোষণ করে আশা প্রকাশ করেন যে, রিমান্ডের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবে।
অন্যদিকে তনুর মা আনোয়ার বেগম দীর্ঘ সময়ের এই প্রতীক্ষাকে অত্যন্ত কষ্টের বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তার মেয়েকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তিনি তার সঠিক বিচার দেখতে চান। আনোয়ার বেগম স্পষ্টভাবে দাবি জানান যে, তার মেয়ের হত্যাকারীকে যেন ফাঁসি দেওয়া হয়, যাতে সারা দেশের মানুষ দেখতে পারে যে তনু হত্যার বিচার হয়েছে। মেয়ের হন্তারককে কাঠগড়ায় দেখে তিনি মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
২০১৬ সালে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় তনুর মৃতদেহ উদ্ধারের পর সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও তদন্তের তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছিল না। দীর্ঘ এক দশক পর পিবিআইয়ের (পিবিআই) মাধ্যমে প্রথম এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটিকে তনুর পরিবার ও সাধারণ মানুষ বিচার প্রক্রিয়ার একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উন্মোচন করে সকল দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।