সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১২৯ জনের শরীরে এই রোগ শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে বুধবার (২২ এপ্রিল) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৮ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ১৯০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ১৮ হাজারেরও বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার শিশুর দেহে রোগটির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬২ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এরপরই চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে যথাক্রমে ১৯৬ ও ১৯৩ জন শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১১২ জন এবং খুলনায় ৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
দেশের এই চলমান স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারগুলোর চরম অবহেলাকে দায়ী করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, সময়মতো শিশুদের হামের টিকা না দেওয়া একটি ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’, যার খেসারত এখন পুরো দেশকে দিতে হচ্ছে। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ইউনিসেফের দ্রুত সহযোগিতায় বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত টিকা আনা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রায় দুই কোটি শিশুকে হামের টিকা প্রদান করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন এই প্রাদুর্ভাবকে ‘মহামারি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে অবিলম্বে দেশজুড়ে একটি কার্যকর গণটিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা জরুরি। বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও, প্রতিদিন নতুন করে বিপুল সংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর আসায় সারা দেশে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।