২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২ জুলাই থেকে ঢাকা, রাজশাহী, যশোরসহ দেশের মোট ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষা একযোগে শুরু হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই রুটিন অনুযায়ী, প্রথম দিন সকালে আবশ্যিক বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে এবারের শিক্ষাবর্ষের এই বড় পাবলিক পরীক্ষা।
প্রকাশিত সূচি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুলাই মাসজুড়ে প্রধান আবশ্যিক ও নৈর্বাচনিক বিষয়গুলোর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখযোগ্য পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ৪ জুলাই বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ৬ ও ৮ জুলাই ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা শেষে ১৩ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা ও ভূগোলের উভয় পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে। মাসের শেষার্ধে ১৯ ও ২২ জুলাই রসায়ন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এরপর অর্থনীতি, পৌরনীতি, জীববিজ্ঞান এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনার পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে শেষ হবে জুলাই মাসের সূচি।
আগস্ট মাসের শুরুতেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষা রয়েছে। ২ ও ৪ আগস্ট উচ্চতর গণিত এবং ইসলাম শিক্ষার উভয় পত্রের পরীক্ষা হবে। এরপর ৮ আগস্ট ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা এবং সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম পরীক্ষার মাধ্যমে তত্ত্বীয় অংশের সমাপ্তি ঘটবে। বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে নম্বর অনলাইনে এন্ট্রি করতে হবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বোর্ড থেকে বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই কেন্দ্রে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে বিরতিহীনভাবে সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য মোট সময় বরাদ্দ থাকবে ৩ ঘণ্টা। তবে যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে সময় কিছুটা কম হতে পারে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক—প্রতিটি অংশে শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে পাস করতে হবে। পরীক্ষার হলে সাধারণ সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও স্মার্টফোন বা প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর সঙ্গে রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলেও জানানো হয়েছে।