১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:২৮:৪০ অপরাহ্ন


পবিত্র হজ পালন করতে যেসব স্থানে যেতে হয়
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৯ ১৫:৪৪:৩৩
পবিত্র হজ পালন করতে যেসব স্থানে যেতে হয় ছবি: সংগৃহীত


পৃথিবীর বুকে মহান আল্লাহ তাআলার এক অনন্য নিদর্শন এবং মুসলিম উম্মাহর হৃদস্পন্দন হলো পবিত্র কাবা শরিফ। মসজিদুল হারামের ঠিক মধ্যিখানে অবস্থিত এই চতুর্ভুজ আকৃতির ঘরটি ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান। কাবার গঠনশৈলী অত্যন্ত সুনিপুণ; এর উচ্চতা ১৪ মিটার এবং ভিত্তি ক্ষেত্রফল ১৪৫ বর্গমিটার। এর প্রতিটি দেয়ালের দৈর্ঘ্য ভিন্ন ভিন্ন, যার মধ্যে দরজার দিকের দেয়ালটি ১১.৬৮ মিটার এবং হাজরে আসওয়াদ ও ইয়ামানি রুকনের মধ্যবর্তী অংশটি ১০.১৮ মিটার। পবিত্র কোরআনে দুইবার এই 'কাবা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এই নামকরণের পেছনে দুটি চমৎকার মত প্রচলিত রয়েছে—প্রথমত, এটি উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এবং দ্বিতীয়ত, এটি চতুর্ভুজ আকৃতির হওয়ায় একে কাবা বলা হয়। কাবার চারটি কোণ বা রুকন চারটি ভিন্ন দিক নির্দেশ করে, যা যথাক্রমে ইরাকি, ইয়ামানি, হাজরে আসওয়াদ এবং শামি রুকন নামে পরিচিত।

কাবার সন্নিকটেই অবস্থিত সাফা ও মারওয়া নামক দুটি ঐতিহাসিক পাহাড়, যা আজ হাজেরা (আ.)-এর মাতৃত্বের ও ধৈর্যের এক অক্ষয় স্মৃতি বহন করে চলেছে। ইসলামের ইতিহাসে মা হাজেরা যখন শিশু ইসমাইল (আ.)-এর তৃষ্ণা মেটানোর জন্য জনমানবহীন মরুভূমিতে ব্যাকুল হয়ে পানির খোঁজে এই দুই পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন, সেই পুণ্যময় স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে আল্লাহ তাআলা সাফা-মারওয়া সাঈ করাকে হজযাত্রীদের জন্য ওয়াজিব করে দিয়েছেন। বর্তমানে সাফা পাহাড়টি কাবা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ১৩০ মিটার দূরে এবং মারওয়া পাহাড়টি উত্তর-পূর্ব দিকে ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত। পাহাড় দুটির একাংশ বর্তমানে উন্মুক্ত থাকলেও বাকি অংশ আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে পাকা ও গম্বুজ দ্বারা সুশোভিত করা হয়েছে।

হজের আনুষ্ঠানিকতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত মিনা হলো ইবরাহিম (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত একটি পবিত্র উপত্যকা। এখানেই তিনি আল্লাহর নির্দেশে নিজ পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। অধিক পরিমাণে পশু জবাই বা কোরবানির কারণে এই স্থানের নাম হয়েছে মিনা। হজের মূল কার্যক্রম মূলত ৮ই জিলহজ এই মিনা থেকেই শুরু হয় এবং ১০ই জিলহজ বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ ও মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হজযাত্রীরা হজের একটি বড় অংশ সম্পন্ন করেন। মিনার পাশেই অবস্থিত জামারাত, যেখানে ছোট, মেজো ও বড়—এই তিন স্তরে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের বিধান রয়েছে, যা ইবরাহিম (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক প্রতিরোধের প্রতীক।

হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন বা বিধান হলো আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। মক্কা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল মরুপ্রান্তরটি তিন দিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা। ৯ই জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত হজযাত্রীরা এখানে অবস্থান করে মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই ময়দানেই অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘জাবালে রহমত’ বা রহমতের পাহাড়। আরাফার ময়দান থেকে ফেরার পথে হজযাত্রীরা মুজদালিফা নামক স্থানে রাত যাপন করেন। এখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করতে হয় এবং এখান থেকেই শয়তানকে নিক্ষেপ করার পাথর সংগ্রহ করা হয়। মুজদালিফায় রাত যাপন করা এবং সুবহে সাদিকে অবস্থান করা হজের অন্যতম ওয়াজিব বিধান। মূলত কাবা ঘর থেকে শুরু করে সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফা—এই প্রতিটি স্থানই নবী-রাসূলদের ত্যাগ ও ইবাদতের এক অনন্য স্মারক, যা আজও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানকে একই সুতোয় গেঁথে রাখে।