মার্কিন নৌ অবরোধের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান আবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) জাহাজ চলাচলের গতিপথ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, অন্তত ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়ে মাঝপথ থেকেই ফিরে গেছে। ভেসেল ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ফিরে যাওয়া এসব জাহাজের অধিকাংশই ছিল বিশালাকৃতির তেলবাহী ট্যাংকার, যেগুলোর একটি বড় অংশের গন্তব্য ছিল ভারতের বিভিন্ন বন্দর।
সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর দেওয়া তথ্যমতে, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখের লারাক দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। উল্লেখ্য, এই লারাক দ্বীপ এলাকাটি ইরান তাদের সামুদ্রিক সীমান্ত পর্যবেক্ষণের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। হঠাৎ করে জাহাজগুলোর এভাবে ফিরে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক নৌপথে বড় ধরনের জট ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসে। এর মাত্র একদিন আগে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ‘সম্পূর্ণ খোলা’ থাকবে। কিন্তু শনিবার ইরান সরকার তাদের সিদ্ধান্ত বদলে জানায় যে, মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকার প্রতিবাদে তারা আবারও প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব তেল সরবরাহের ওপর।