১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন


নিজের বিয়ে বন্ধ করতে থানায় হাজির এইচএসসি পরীক্ষার্থী
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৮ ১৭:০০:০৬
নিজের বিয়ে বন্ধ করতে থানায় হাজির এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছবি: সংগৃহীত


নিজের বাল্যবিয়ে রুখতে এবং আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অধিকার রক্ষায় অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে পিরোজপুরের জিয়ানগর (ইন্দুরকানী) উপজেলার এক স্কুলছাত্রী। পরিবারের প্রবল চাপের মুখেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নেশায় দুই দফায় থানায় আশ্রয় নিয়ে নিজের বিয়ে বন্ধ করতে বাধ্য করেছে সে। সাহসী এই শিক্ষার্থীর নাম তহমিনা আক্তার, যে স্থানীয় সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, উপজেলার চাড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা আলম হাওলাদার তার মেয়ে তহমিনার অমতেই এক প্রবাসী যুবকের সঙ্গে বিয়ের সব আয়োজন চূড়ান্ত করেছিলেন। গত শুক্রবার ছিল বিয়ের নির্ধারিত দিন। বাড়িতে রান্নাবান্না ও মেহমানদারির ধুম চললেও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে নারাজ ছিল কিশোরী তহমিনা। উপায়ান্তর না দেখে সে সকালে প্রাইভেট পড়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে হাজির হয় এবং পুলিশের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে।

তহমিনার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তার বাবা আলম হাওলাদারকে থানায় ডেকে পাঠায়। তখন তিনি মেয়ের বয়স ১৮ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না বলে লিখিত মুচলেকা দিলে পুলিশ তহমিনাকে তার জিম্মায় ছেড়ে দেয়। তবে বাড়ি ফেরার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। শুক্রবার রাত থেকেই পরিবারের সদস্যরা তাকে পুনরায় বিয়ের জন্য মানসিক চাপ দিতে শুরু করেন এবং বিয়ের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

এমতাবস্থায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তহমিনা শনিবার সকালে আবারও বাড়ি থেকে পালিয়ে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। থানায় বসে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে নিজের আকুতি জানিয়ে সে বলে, তাকে পুনরায় বাড়িতে পাঠানো হলে তার বাবা জোর করে বিয়ে দিয়ে দেবেন। মাত্র চার দিন পর তার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। সে কোনোভাবেই বিয়ে করতে চায় না, বরং পড়াশোনা চালিয়ে মানুষের মতো মানুষ হতে চায়। এজন্য সে প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে।

এ বিষয়ে তহমিনার বাবা আলম হাওলাদার জানান, অভাবের সংসার হওয়ায় এবং ভালো পাত্রের সন্ধান পাওয়ায় তিনি মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। তবে মেয়ের প্রবল অসম্মতি থাকায় এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। মেয়ের বয়স না হওয়া পর্যন্ত আর বিয়ের চেষ্টা করবেন না বলে তিনি পুনরায় অঙ্গীকার করেন।

ইন্দুরকানী থানার এসআই সাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচতে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন সাহসী পদক্ষেপ বিরল। তহমিনা দুই দফায় থানায় এসে সাহায্য চাওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তার বাবার কাছ থেকে কঠোর মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং ওই শিক্ষার্থী যাতে নির্বিঘ্নে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন নজর রাখছে। বর্তমানে তহমিনা তার পরিবারের কাছেই রয়েছে, তবে তার এই সাহসিকতা পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।