লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল, বিশেষ করে চরকালকিনি ইউনিয়নের মাঝেরচরের কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, চরের বিভিন্ন ঘাটে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও হয়রানির কারণে কৃষকরা লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, মূলধন তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
অভিযোগের তীর বিএনপি নেতাদের দিকে
কৃষকদের অভিযোগ, মাঝেরচর থেকে নাছিরগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজারে কৃষিপণ্য নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত তিনটি ঘাটে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই চাঁদাবাজি চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় চরকালকিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সুমন। কৃষকরা জানান, ধান, ভুট্টা, সবজি বা তরমুজ—যেকোনো ফসল ঘাটে পৌঁছানো মাত্রই পণ্যের ধরন অনুযায়ী চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে নৌকা ভিড়তে দেওয়া হয় না বা পণ্য আটকে রাখা হয়।
চাঁদাবাজির খতিয়ান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রে ইব্রাহিম সুমনের পাশাপাশি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল মজিদ মেম্বার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সবুজসহ ১০-১২ জন জড়িত। তারা প্রতি পিস তরমুজে ৩ টাকা; ধান, সয়াবিন ও মরিচের বস্তাপ্রতি ৪০ টাকা এবং বালুবাহী বলগেট প্রতি ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ হাজার টাকা এবং মাসে ১৮-২০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে এই এলাকায়।
কৃষকদের আর্তনাদ ও প্রশাসনের ভূমিকা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, তারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। ঘাটে এসে চাঁদা দিতে হলে তাদের লোকসান গুনতে হয়। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা সামনের মৌসুমে ফসল উৎপাদন বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।