দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা শ্রীলঙ্কার নতুন সরকার বড় ধরনের হোঁচট খেল। কয়লা আমদানিতে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় পদত্যাগ করেছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিশানায়েকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরপরই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
নিম্নমানের কয়লা ও বিপুল আর্থিক ক্ষতি
একটি সরকারি অডিট রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দেখা গেছে:
দেশটির বৃহত্তম ৯০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সরবরাহকৃত কয়লার মান অত্যন্ত নিম্ন হওয়ায় পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছিল না।
সরবরাহকৃত কয়লার 'ক্যালোরিফিক ভ্যালু' (তাপ উৎপাদন ক্ষমতা) চুক্তির চেয়ে অনেক কম ছিল।
ন্যাশনাল অডিট অফিসের মতে, এই নিম্নমানের কয়লার কারণে রাষ্ট্রের সরাসরি ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২.২৪ বিলিয়ন রুপি।
সংকট ও বিকল্প জ্বালানির বোঝা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে, তখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরকারকে চড়া দামে ডিজেল কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়েছে। বিরোধী দলের দাবি, এই কয়লা দুর্নীতির ফলে ডিজেল ব্যবহারে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৮ বিলিয়ন রুপি (২৬ মিলিয়ন ডলার) খরচ হয়েছে।
২০০৯ সাল থেকে তদন্তের ঘোষণা
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রপতি দিশানায়েকে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন। তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে জ্বালানিমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলাও পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, কেবল বর্তমান নয়, ২০০৯ সাল থেকে কয়লা ক্রয়ের সকল নথিপত্র এবং লেনদেন তদন্ত করা হবে।