১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন


ট্রাম্পের ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ চাল বনাম তেহরানের ‘অসম্ভব’ হুঙ্কার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৮ ১২:৫৩:২৯
ট্রাম্পের ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ চাল বনাম তেহরানের ‘অসম্ভব’ হুঙ্কার


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পারমাণবিক উত্তেজনা এক নতুন এবং নাটকীয় মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো উপায়ে ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ (Nuclear Dust) অধিগ্রহণ করবে। তবে তেহরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘অসম্ভব’ এবং ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্পের ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ও সামরিক অবস্থান

সিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করার বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করতে তেহরান রাজি হয়েছে। তিনি এই ইউরেনিয়ামকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এগুলো যেভাবেই হোক নিয়ে নেবে।

সাক্ষাৎকারে যখন জানতে চাওয়া হয় এই কাজে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হবে কি না, ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জবাব দেন: “কোনো সেনা লাগবে না। আমরা সরাসরি গিয়ে বিষয়টি সমাধান করব এবং যা প্রয়োজন তা নিয়ে আসব। একটি চুক্তি হয়ে যাবে, আর চুক্তি হলে কোনো যুদ্ধের দরকার হবে না। তবে সরাসরি ইউরেনিয়াম দখল করা একটু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।”

তেহরানের কড়া জবাব: ‘এক বিন্দু ইউরেনিয়ামও যাবে না’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে স্রেফ কল্পনাপ্রসূত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন: “আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। সাম্প্রতিক আলোচনা মূলত সংঘাত কমানো ও যুদ্ধ বন্ধের ওপর ছিল, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে নয়। ট্রাম্পের এই দাবি বাস্তবতার সাথে সংগতিহীন।”

ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি নন এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে কোনো বিশেষ শর্ত তারা মেনে নেবেন না।

উত্তেজনার কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম ও নৌপথ

বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার অত্যন্ত কাছাকাছি। ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, ইউরেনিয়াম নিয়ে চাপের পাশাপাশি যদি হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়, তবে তারা তার কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত। তেহরানের মতে, যেকোনো নৌ-অবরোধ হবে যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন।