১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩১:৩৯ অপরাহ্ন


দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজের চাপ: এটি কি সত্যিই মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়?
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৩ ১৭:৪৮:১৩
দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজের চাপ: এটি কি সত্যিই মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়?


আধুনিক করপোরেট সংস্কৃতিতে ‘আট ঘণ্টা’ কাজের নিয়মটি এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়া, বাড়তি আয়ের নেশা বা প্রতিষ্ঠানের চাপে অধিকাংশ কর্মীই এখন এর চেয়ে অনেক বেশি সময় কাজ করছেন। কিন্তু এই অতিরিক্ত পরিশ্রম কি আপনাকে সফলতার শিখরে নিচ্ছে, নাকি কবরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সাম্প্রতিক গবেষণা এক ভয়াবহ আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে।

গবেষণার ভয়াবহ পরিসংখ্যান

২০১৬ সালের এক বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে সৃষ্ট স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে প্রায় ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জাপানে এই পরিস্থিতির একটি বিশেষ নাম রয়েছে—‘কারোশি’, যার আক্ষরিক অর্থ হলো ‘অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যু’।

গবেষণায় দেখা গেছে:

  • যারা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করেন, তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫% বেড়ে যায়।

  • হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে ১৭% (সপ্তাহে ৩৫-৪০ ঘণ্টা কাজ করা ব্যক্তিদের তুলনায়)।

  • এই মৃত্যুর শিকার হওয়া ব্যক্তিদের তিন-চতুর্থাংশই হলেন মধ্যবয়সী বা বয়স্ক পুরুষ।


অতিরিক্ত কাজ শরীর ও মনের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে?

গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় কাজ করলে দুইভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়:

  1. সরাসরি প্রভাব: অতিরিক্ত মানসিক চাপে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, অবসাদ এবং দীর্ঘমেয়াদে হার্টের মারাত্মক ক্ষতি করে।

  2. পরোক্ষ প্রভাব: কাজের চাপে মানুষ পর্যাপ্ত ব্যায়াম করতে পারে না, অস্বাস্থ্যকর খাবার খায় এবং স্ট্রেস কমাতে ধূমপান বা মদ্যপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে।


‘অন কল’ থাকার অদৃশ্য ফাঁদ

প্রযুক্তি আমাদের কাজকে সহজ করলেও ‘সবসময় যুক্ত’ থাকার এক নতুন সংকট তৈরি করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অফিসের বাইরেও ফোনের মেসেজ বা ইমেলের উত্তর দেওয়ার জন্য ‘অন কল’ থাকেন, তাদের শরীর ও মন কখনোই পুরোপুরি বিশ্রাম পায় না। এমনকি ছুটির দিনেও তারা মানসিকভাবে অফিসের সঙ্গেই যুক্ত থাকেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ‘বার্নআউট’ তৈরি করে।

গিগ ইকোনমি ও অ্যালগরিদমের চাপ

ফ্রিল্যান্সিং বা গিগ ইকোনমির কর্মীরা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে। ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লায়েন্টের জন্য ঢাকা থেকে রাত জেগে কাজ করা সাজ্জাদ তানজিদের মতো লাখ লাখ কর্মী এখন ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন। ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম অনেক সময় কর্মীদের বাধ্য করে অতি দ্রুত রেসপন্স করতে বা দীর্ঘ সময় কাজ করতে, নতুবা তাদের রেটিং কমে যাওয়ার ভয় থাকে।


সমাধানের পথ কী?

গবেষকরা এখন ‘উইকএন্ড’ বা ছুটির প্রকৃত ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক কিছু সফল গবেষণায় দেখা গেছে:

  • সপ্তাহে ৪ দিন কাজ: এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো, এতে উৎপাদনশীলতাও বাড়ে।

  • বিশ্রামের গুণগত মান: কাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘুমানো এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।