১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০২:৪৫:৪৯ পূর্বাহ্ন


সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের কড়া নীতি: এমপিদের স্ত্রী-কন্যারা পাচ্ছেন না মনোনয়ন
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১১ ১৯:০০:০৮
সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের কড়া নীতি: এমপিদের স্ত্রী-কন্যারা পাচ্ছেন না মনোনয়ন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) স্ত্রী, কন্যা বা পরিবারের কোনো সদস্যকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। আগামী ১২ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এক পরিবার, এক এমপি নীতি

জামায়াত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘এক পরিবার থেকে দুজন সংসদ সদস্য হতে পারবেন না’—দলের এই দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী বর্তমান এমপিদের পরিবারের সদস্যদের তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। তবে যেসব কেন্দ্রীয় নেতা এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েও বিজয়ী হতে পারেননি, তাদের স্ত্রী বা কন্যারা যোগ্যতার ভিত্তিতে বিবেচনায় আসতে পারেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ প্রসঙ্গে বলেন: “দলের যাঁরা বর্তমানে সংসদ সদস্য, তাঁদের পরিবারের কেউ সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাবেন না। এটি জামায়াতের একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি এবং এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না।”

জোটের আসন ভাগাভাগি

সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ১৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। বর্তমান আলোচনা অনুযায়ী:

  • জামায়াতে ইসলামী: ১২টি আসন।

  • এনসিপি: ১টি আসন। এনসিপি আরও একটি আসনের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত জামায়াত ১২ ও এনসিপি ১—এই ফর্মুলাতেই আলোচনা এগোচ্ছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আলোচনায় রয়েছেন যাঁরা

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের মহিলা বিভাগের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে:

  • নুরুন্নেসা সিদ্দীকা: সেক্রেটারি, জামায়াতের মহিলা বিভাগ।

  • মারদিয়া মমতাজ: শিক্ষক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

  • সাবিকুন্নাহার মুন্নী: আইনজীবী (কেন্দ্রীয় প্রচার সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী)।

যোগ্যতার মানদণ্ড

জামায়াতের মহিলা বিভাগ থেকে ১২ জনের একটি তালিকা কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে: ১. পেশাগত দক্ষতা: শিক্ষক ও আইনজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২. অভিজ্ঞতা: আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় বিতর্কে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা। ৩. প্রতিনিধিত্ব: জেলা বা তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

মার্চ মাসজুড়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের মতামত ও যাচাই-বাছাই শেষে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না।