১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৪০:০৪ অপরাহ্ন


স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামিরা, খুঁজছে পুলিশ!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১১ ১৭:০০:৪৩
স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামিরা, খুঁজছে পুলিশ!


ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ‘খুঁজে পাচ্ছে না’ বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভিকটিমের বড় বোন এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন।

দীর্ঘ আইনি লড়াই ও বর্তমান পরিস্থিতি

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার ডুবাইল এলাকায় যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন মানিকের নেতৃত্বে ওই কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পর দীর্ঘ হয়রানির চিত্র উঠে আসে ভিকটিমের বোনের বক্তব্যে:

  • পুলিশি অসহযোগিতা: ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করতে গেলে পাগলা থানা পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

  • আদালতের মাধ্যমে মামলা: বাধ্য হয়ে ভিকটিম পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। পরে গত ৭ মার্চ আদালতের নির্দেশে পাগলা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

  • অর্ধেক গ্রেফতার: পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করলেও বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

হুমকি ও পড়াশোনা বন্ধ

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি সংবাদ সম্মেলন করতে তাঁদের রাতের আঁধারে গোপনে ময়মনসিংহে আসতে হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে কিশোরীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চিত।

রাজনৈতিক পরিচয়

মামলার প্রধান আসামি মোশাররফ হোসেন মানিক স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। তিনি গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ইসহাকের ভাতিজা এবং পাগলা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য শেখ মোহাম্মদ ইসমতের ছেলে। এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই পুলিশ আসামিদের ধরছে না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর দাবি সঠিক নয়। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন। দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।