১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:২৪:২৩ অপরাহ্ন


এবার লোহিত সাগরে হুতিদের হুঙ্কার: বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ-অবরোধের হুমকি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৫ ২১:২৩:৫৬
এবার লোহিত সাগরে হুতিদের হুঙ্কার: বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ-অবরোধের হুমকি আল-মান্দেব প্রণালি


ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পাল্টা জবাব দিতে এবার বিশ্ব অর্থনীতি ও নৌ-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী 'বাব আল-মান্দেব' প্রণালি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার হুতি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানে চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কোনো দেশ সমর্থন দিলে এই প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল রুখে দেওয়া হবে।

হুতিদের প্রথম পদক্ষেপ: নৌ-অবরোধ

হুতি সামরিক বাহিনীর প্রভাবশালী কর্মকর্তা আবেদ আল-থাওর রুশ সংবাদমাধ্যম তাসের (TASS) বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, হুতিরা হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিলে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধ ঘোষণা করবে।

প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন:

“যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজ, যুদ্ধজাহাজ এমনকি বিমানবাহী রণতরীও হুতিদের লক্ষ্যবস্তু হবে। প্রয়োজনে ইসরায়েলের বন্দরমুখী সব জাহাজের জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

১৬ দিনের যুদ্ধের ভয়াবহ প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের আকস্মিক হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল। হোয়াইট হাউস একে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বললেও ইরানের আইআরজিসি (IRGC) একে বড় ধরনের আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ শুরু করেছে।

এই যুদ্ধের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু: হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুর দাবি করা হয়েছে, যা ইরানকে আরও মরিয়া করে তুলেছে।

আঞ্চলিক ঘাঁটিতে হামলা: ইরানের পাল্টা জবাবে বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইতোমধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার: আজ ১৫ মার্চ ইরান প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে তাদের কৌশলগত কঠিন জ্বালানিচালিত সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচলকারী বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া এবং বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহে চরম সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।