১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:২৭:১৪ অপরাহ্ন


ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের মিথ্যাচার ফাঁস: কুয়েতে সেনাসদস্যদের জবানবন্দিতে তোলপাড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১১ ১৫:২৫:৪৩
ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের মিথ্যাচার ফাঁস: কুয়েতে সেনাসদস্যদের জবানবন্দিতে তোলপাড়


ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ওপর হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় বেঁচে যাওয়া সেনাসদস্যরা এবার পেন্টাগনের সরকারি বিবরণের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন। গত ১ মার্চ কুয়েতে হওয়া ওই হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হন। পেন্টাগন দাবি করেছিল যে ঘাঁটিটি ‘সুরক্ষিত’ ছিল, কিন্তু সরাসরি হামলায় আক্রান্ত সেনারা বলছেন ভিন্ন কথা।

পেন্টাগনের দাবি বনাম সেনাদের জবানবন্দি

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, ড্রোনটি একটি সুরক্ষিত ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস সেন্টারে আঘাত হানে। কিন্তু সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহত এক সেনাসদস্য বলেন: “একটি ড্রোন কোনোভাবে ঢুকে পড়েছিল, এমন চিত্র তুলে ধরা সত্য নয়। আমি চাই মানুষ জানুক, আমাদের ইউনিট নিজেদের রক্ষার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এটি কোনো সুরক্ষিত অবস্থান ছিল না।”

অন্যতম গুরুতর অভিযোগ হলো, সেনাবাহিনীর লজিস্টিক ইউনিটকে এমন একটি অনিরাপদ ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল, যা সরাসরি ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে ছিল।

ভুল সংকেত ও উদ্ধারকাজে গাফিলতি

হামলার দিন সকালে সেনাসদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকলেও হামলার ঠিক ৩০ মিনিট আগে পেন্টাগন থেকে ‘সবকিছু স্বাভাবিক’ সংকেত দেওয়া হয়। এই ভুল সংকেতের পরই ইরানের ড্রোনটি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী সেনা বলেন, “সবকিছু কেঁপে উঠেছিল। কানে শব্দ হচ্ছিল, চারদিকে ধুলো আর ধোঁয়া। এটি যেন সিনেমার কোনো ভয়ানক দৃশ্য।”

সেনাদের আরও অভিযোগ, হামলার পর উদ্ধার কার্যক্রমেও ছিল চরম ঘাটতি:

  • প্রাথমিক চিকিৎসা: আহত সেনারাই একে অপরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

  • পরিবহন: সামরিক অ্যাম্বুলেন্সের বদলে বেসামরিক যানবাহন ব্যবহার করে আহতদের হাসপাতালে নিতে হয়েছে।

বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটে পেন্টাগন

প্রতিরক্ষা দপ্তরের সহকারী সচিব শন পারনেল যখন দাবি করছেন যে সেনাদের নিরাপত্তায় ‘সব ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে, তখন রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে ড্রোনটি আসার সময় কোনো সতর্কসংকেত বাজেনি। এমনকি সেখানে কোনো কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense) ছিল কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনার পর পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দেওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।