১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৪০:১০ অপরাহ্ন


লেবাননে ইসরাইলের রক্তক্ষয়ী হামলা: ভেস্তে যাওয়ার মুখে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৯ ১৬:৩৫:৪০
লেবাননে ইসরাইলের রক্তক্ষয়ী হামলা: ভেস্তে যাওয়ার মুখে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি


সবেমাত্র শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির রেশ কাটতে না কাটতেই লেবাননে ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। বুধবার (৮ এপ্রিল) দিনভর ‘অপারেশন ইটারনাল ডার্কনেস’ (Operation Eternal Darkness)-এর নামে চালানো এই নৃশংস হামলায় অন্তত ২৫৪ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির ফলে পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় অর্জিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখন চূড়ান্তভাবে ভেস্তে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

১০ মিনিটে ১০০ হামলা: রক্তক্ষয়ী বুধবার

বুধবার দুপুর ২টার দিকে রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় মাত্র দশ মিনিটের ব্যবধানে শতাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স (IDF)। কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই চালানো এই হামলায় আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবন মাটির সাথে মিশে যায়।

  • নিহত: ২৫৪ জন (যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য)।

  • আহত: ১,১৬৫ জনের বেশি।

  • বিপর্যস্ত বৈরুত: রাজধানীর কেন্দ্রস্থল এবং উপকণ্ঠের পাঁচটি ভিন্ন নেইবারহুডে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করা হয়। লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, কেবল বৈরুত ও এর আশেপাশেই ৩০০ জনের বেশি হতাহত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে পাল্টাপাল্টি বিতর্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ অনুযায়ী যে ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছিল, তার দশম শর্তে স্পষ্টভাবে লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, লেবাননে হামলা বন্ধের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

ইরানের হুঁশিয়ারি ও ‘ইলজিক্যাল’ আলোচনা

এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, “শর্তগুলো একদম স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রকে হয় যুদ্ধবিরতি বেছে নিতে হবে, নয়তো ইসরাইলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বেছে নিতে হবে। তারা দুটিই একসাথে করতে পারে না।”

অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তিনটি শর্ত লঙ্ঘন করেছে: ১. লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ। ২. ইরানের আকাশসীমায় ড্রোনের অনুপ্রবেশ (যা লার শহরে ভূপাতিত করা হয়েছে)। ৩. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে ট্রাম্পের নেতিবাচক মন্তব্য। গালিবাফ এই পরিস্থিতিকে ‘অযৌক্তিক’ (Illogical) আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, এমন পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বসার কথা থাকলেও, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।