সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও তার একান্ত সচিব (পিএস) শামসুদ্দিন মাসুমের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা ইতোমধ্যে কমিশন কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের তথ্যের বরাত দিয়ে অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোনো নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি ঘুষের প্রতিশ্রুতি দেওয়া টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় জারিকৃত বদলির আদেশ স্থগিত করার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এই বিশাল অঙ্কের অবৈধ অর্থ লেনদেনের মূল কারিগর ছিলেন তৎকালীন আইন উপদেষ্টার একান্ত সচিব শামসুদ্দিন মাসুম (বর্তমানে জেলা জজ)। বদলি বাণিজ্য ছাড়াও সরকারি নির্দেশের অপব্যবহার এবং নানামুখী প্রভাব খাটিয়ে তিনি সীমাহীন দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারী আইনজীবী এই দুর্নীতিকে ‘প্রকাশ্য ও উন্মুক্ত’ হিসেবে অভিহিত করে এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান দাবি করেছেন।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদের উৎস সন্ধানে দ্রুতই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।