১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১২:২৬:৫৯ পূর্বাহ্ন


শারীরিক সম্পর্কের পর টাকা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় খুন হয় ডলি
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৫ ১৬:৩০:৩৬
শারীরিক সম্পর্কের পর টাকা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় খুন হয় ডলি ছবি: সংগৃহীত


শেরপুরের শ্রীবরদীতে গত ১ এপ্রিল একটি তালাবদ্ধ স্টিলের ট্রাঙ্ক থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনৈতিক কাজের পাওনা টাকা নিয়ে দরকষাকষির জেরে ডলি আক্তার নামের ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত ডলি আক্তার নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় ও ট্রাঙ্ক বহনকারী পিকআপ ভ্যানচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার ভোরে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। ঘাতক নিয়ামুর নাহিদ ও তার স্ত্রী গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরির সুবাদে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। গত ৩০ এপ্রিল রাতে স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে নাহিদ টাকার বিনিময়ে ডলি আক্তারকে তার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে পাওনা টাকা কম দেওয়া নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে ডলি চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে নাহিদ তাকে চুপ করাতে মুখ চেপে ধরেন এবং গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

হত্যার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাহিদ তার স্ত্রীকে কর্মস্থল থেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন এবং পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। স্বামীর অপরাধ আড়াল করতে রিক্তা মনি তাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। দু’জনে মিলে স্থানীয় বাজার থেকে একটি বড় ট্রাঙ্ক কিনে আনেন এবং ডলির মরদেহ তোষক দিয়ে পেঁচিয়ে সেই ট্রাঙ্কে ভরে তালাবদ্ধ করেন। গাজীপুরের জনবহুল এলাকায় মরদেহ গুম করা কঠিন হবে ভেবে তারা নাহিদের গ্রামের বাড়ি শেরপুরের শ্রীবরদীতে নির্জন স্থানে ট্রাঙ্কটি ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

গত ১ এপ্রিল ভোরে একটি পিকআপ ভ্যানের চালকের সহায়তায় ট্রাঙ্কটি শেরপুরে নিয়ে আসা হয়। শ্রীবরদী সরকারি কলেজের কাছে তিন রাস্তার মোড়ে কৌশলে ট্রাঙ্কটি ফেলে রেখে তারা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ তালাবদ্ধ ট্রাঙ্ক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। গ্রেপ্তারকৃত দম্পতিকে গতকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, কেবল অনৈতিক সম্পর্কের জেরে তৈরি হওয়া বিবাদ ঢাকতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।