ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে ওয়াশিংটনকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক বার্তা দিল স্পেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, স্পেনের মাটি বা আকাশ কোনোটিই ইরানের ওপর ‘একতরফা’ ও ‘অবৈধ’ হামলায় ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা
স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলস বলেন, “আমরা এই যুদ্ধের শুরু থেকেই আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা যৌথ সামরিক ঘাঁটি (রোটা ও মোরন) ব্যবহারের অনুমতি দিইনি এবং এখন থেকে স্পেনের আকাশসীমাও মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য বন্ধ থাকবে। ইরানের যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে স্পেনের কোনো সহযোগিতা থাকবে না।”
সিদ্ধান্তের প্রভাব ও কারণ
স্পেনের এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে:
বিকল্প পথ: মার্কিন বিমানগুলোকে এখন স্পেনকে এড়িয়ে অনেক দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে হবে, যা জ্বালানি ও সময় উভয়ই ব্যয়বহুল করবে।
আন্তর্জাতিক আইন: স্পেনের অর্থমন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বহিঃপ্রকাশ। স্পেন কোনো একতরফা যুদ্ধকে সমর্থন করে না।
ব্যতিক্রম: মানবিক কারণে বা জরুরি কোনো ফ্লাইটের ক্ষেত্রে (Emergency Situations) এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।
সানচেজ-ট্রাম্প উত্তেজনা
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই এই যুদ্ধকে ‘বড় ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের এই অসহযোগিতার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির ওপর ‘বাণিজ্যিক প্রতিশোধ’ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও স্পেন তার শান্তিবাদী অবস্থানে অটল রয়েছে।