ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, জায়নবাদী ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবকাঠামো ধ্বংস করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ছক অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
‘হতাশার প্রতিফলন’
আরাঘচি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, বিজ্ঞানী এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা মূলত আগ্রাসীদের চরম ‘হতাশার’ বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, “ইসরায়েল মনে করে বোমা হামলার মাধ্যমে মেধা ও বিজ্ঞানকে মুছে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু তারা ভুলে গেছে যে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড ইরানি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান অন্বেষণের আকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।”
এক মাসের যুদ্ধ ও ক্ষয়ক্ষতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গত এক মাসে ইরানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আরাঘচি অভিযোগ করেন:
বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু: সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাসপাতালের মতো অসামরিক স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
বিগত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি: বিগত বছরগুলোতে ইরানি বিজ্ঞানীদের গুপ্তহত্যা এবং পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার ধারাবাহিকতা হিসেবেই বর্তমানের এই বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক আক্রমণকে দেখছে তেহরান।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পশ্চিমের কোনো চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না। ইতিমধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তেহরান সতর্ক করেছে যে, প্রতিটি বেসামরিক স্থাপনায় হামলার জন্য আক্রমণকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি