১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০৭:০৬ অপরাহ্ন


আসিয়া আন্দ্রাবির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড: কাশ্মীরের প্রতিরোধ আন্দোলনে বড় ধাক্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-২৫ ১৫:৩৫:৩০
আসিয়া আন্দ্রাবির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড: কাশ্মীরের প্রতিরোধ আন্দোলনে বড় ধাক্কা কাশ্মীরের নারী প্রতিরোধের অন্যতম পরিচিত মুখ আসিয়া আন্দ্রাবি


ভারতের একটি বিশেষ আদালত কাশ্মীরের নারী প্রতিরোধের অন্যতম পরিচিত মুখ আসিয়া আন্দ্রাবিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ এবং ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ লিপ্ত থাকার অভিযোগে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করা হলো।

আদালতের রায় ও সাজা

আদালতের এই রায় কেবল আন্দ্রাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তার ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগী সোফি ফাহমিদা এবং নাহিদা নাসরিনকেও ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে তারা দিল্লির তিহার জেলে বন্দি রয়েছেন। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) তাদের বিরুদ্ধে উপত্যকায় বিক্ষোভ সংগঠিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে বিচ্ছিন্নতাবাদের দিকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল।

বিতর্কিত ইউএপিএ (UAPA) আইন

এই রায়ের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের ‘বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন’ বা ইউএপিএ। মানবাধিকার সংস্থা ও আইনি বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই একে একটি ‘ড্রাকোনিয়ান’ বা কালো আইন হিসেবে অভিহিত করেন। এই আইনের বিশেষত্ব হলো:

  • জামিন পাওয়া কঠিন: এই আইনে অভিযুক্ত হলে বিচার চলাকালীন জামিন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

  • সংজ্ঞার ব্যাপকতা: কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক বক্তব্য বা আদর্শের ওপর ভিত্তি করে তাকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করার সুযোগ থাকে।

  • দীর্ঘকালীন আটক: অনেক ক্ষেত্রে বিচার শুরু হওয়ার আগেই বছরের পর বছর জেলে কাটাতে হয়।

প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক প্রভাব

আসিয়া আন্দ্রাবি কয়েক দশক ধরে কাশ্মীরের ভারত-বিরোধী এবং পাকিস্তান-পন্থী আন্দোলনের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ভারত সরকার এই রায়কে জাতীয় নিরাপত্তার জয় হিসেবে দেখলেও, কাশ্মীরের স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও সমর্থকরা একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করছেন। তাদের মতে, উপত্যকার ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে।

এই রায় ঘোষণার পর শ্রীনগরসহ কাশ্মীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।