১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:২৭:০২ অপরাহ্ন


হিরোশিমা-নাগাসাকির স্মরণে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: প্রতীকী শ্রদ্ধা নাকি শক্তি প্রদর্শন?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-২৪ ১৮:৫১:২১
হিরোশিমা-নাগাসাকির স্মরণে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: প্রতীকী শ্রদ্ধা নাকি শক্তি প্রদর্শন?


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলায় নিহত নিরীহ মানুষদের স্মরণে এক নজিরবিহীন ‘প্রতীকী’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (২৩ মার্চ, ২০২৬) রাতে ইরানের পক্ষ থেকে এই বিশেষ সামরিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার) ও টেলিগ্রামে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি ও ইরানের বার্তা

ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা ইতিহাসের সেই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘পারমাণবিক আধিপত্য’ এবং বর্তমান বৈশ্বিক শক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরীহ মানুষের রক্তের বদলা এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিতেই এই সময়কে বেছে নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলে সতর্কতা ও ক্ষয়ক্ষতি

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ইরানের ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি ইসরায়েলের দিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলার পরপরই তেলআবিবসহ ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় রেড অ্যালার্ট বা উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়। কিছু কিছু জায়গায় স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইতিহাসের একটি মানবিক বিপর্যয়কে সামরিক হামলার ‘অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল। এটি কেবল একটি প্রতীকী শ্রদ্ধা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা ও প্রভাব প্রদর্শনের একটি অংশ। এই ঘটনা ইরান-ইসরায়েল ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।


আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার