১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০১:৪৯ অপরাহ্ন


শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিলেন আদালত
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৯ ২২:৩৫:২০
শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিলেন আদালত


পুরান ঢাকার কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কিশোর জিহাদকে (১১) গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জন আসামিকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ, ২০২৬) তদন্ত প্রতিবেদনে ‘তথ্যগত ভুল’ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এই আদেশ দেন।

মামলার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

তদন্তে দেখা গেছে, মামলার মূল ভিত্তি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। যে কিশোরকে মৃত দাবি করে মামলা করা হয়েছিল, সেই জিহাদ আসলে সুস্থ ও জীবিত আছে। সে নিজেই আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছে যে, গত ৫ আগস্ট সে সাভারের বাইপাইল এলাকায় আন্দোলনে গিয়ে পায়ে আঘাত পেয়েছিল এবং সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। অথচ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় তাকে মৃত সাজিয়ে ১২৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছিল।

অব্যাহতি পেলেন যারা

আদালতের এই আদেশের ফলে অব্যাহতি পেয়েছেন:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ শীর্ষ পর্যায়ের ১২৪ জন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তি।

তদন্ত কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণ ও রিমান্ড নাটক

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বদিয়ার রহমান জানান, এজাহারে ঘটনাস্থল কেরানীগঞ্জ দাবি করা হলেও আসলে ঘটনাটি ছিল সাভারের। মামলার তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় মামলার পুরো ভিত্তিই সাজানো। আর্থিক লাভ বা বিশেষ মহলের প্ররোচনায় বাদী জহিরুল ইসলাম রাজু তার জীবিত ছেলেকে মৃত সাজিয়ে এই মামলা করেন।

মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, অনেক স্বার্থান্বেষী মহল সিন্ডিকেট করে এ ধরনের ভুয়া মামলা করছে। প্রবীণ সাংবাদিক মাসুদ কামাল মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের বাদীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত যাতে কেউ আইন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। আসামিপক্ষের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, তার মক্কেল মতিন হাওলাদার এই মিথ্যা মামলায় ১৫ মাস ধরে কারাগারে আছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।