১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩০:৪৪ অপরাহ্ন


চসিকের মসনদে কি তবে ডাকসু ভিপি? সাদিক কায়েমকে ঘিরে জামায়াতের ‘মাস্টারপ্ল্যান’
নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৬ ১৪:২১:১৯
চসিকের মসনদে কি তবে ডাকসু ভিপি? সাদিক কায়েমকে ঘিরে জামায়াতের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ভিপি সাদিক কায়েম


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র পদে প্রার্থী করতে চায় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী। ইতোমধ্যেই তার নামসহ বেশ কয়েকজন আলোচিত ছাত্রনেতা ও সাবেক কাউন্সিলরের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট ও জনপ্রিয়তার অংক কষে জামায়াত এবার বন্দরনগরীর জন্য ‘তারুণ্যের কার্ড’ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাদিক কায়েম কেন জামায়াতের তুরুপের তাস?

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাদিক কায়েমের ক্লিন ইমেজ এবং দেশজুড়ে তাঁর যে তুমুল জনপ্রিয়তা, সেটিকে চট্টগ্রামে কাজে লাগিয়ে জয় নিশ্চিত করতে চায় দলটি। যদিও তাঁর পরিবার বর্তমানে খাগড়াছড়িতে স্থায়ী, তবে তাদের আদি বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা হিসেবে পরিচিতি এবং ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে রেকর্ড ভোটে ভিপি নির্বাচিত হওয়া—এই দুই ঘটনাই তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

মেয়র প্রার্থীর তালিকায় আরও যারা আছেন

সাদিক কায়েম ছাড়াও জামায়াতের প্রাথমিক তালিকায় আরও বেশ কিছু হেভিওয়েট নাম রয়েছে:

  • মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান: কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

  • নজরুল ইসলাম: মহানগর জামায়াতের আমির ও পরিবেশবিদ।

  • শামসুজ্জামান হেলালী: মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক (সাবেক কাউন্সিলর)।

  • শফিউল আলম: জামায়াত নেতা (সাবেক কাউন্সিলর)।

  • আ ম ম মাসরুর: শিবিরের সাবেক মহানগর সভাপতি।

জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের মধ্যে জামায়াত মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছে (সাতকানিয়া ও বাঁশখালী)। চট্টগ্রাম নগরের চারটি আসনেই তাদের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। দলের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে, শাহজাহান চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় নেতাদের পরিবর্তে ‘পেশাজীবী’ ও ‘চিকিৎসক’ প্রার্থীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়াটা কৌশলী ভুল ছিল। সেই ভুল শুধরে এবার জনপ্রিয় ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ কাউকে মেয়র পদে দেখতে চায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

যা বলছেন জামায়াত নেতারা

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম বলেন: “জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা চসিক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। কয়েকজন সিনিয়র নেতার পাশাপাশি একজন তরুণ জনপ্রিয় নেতার নামও চসিক মেয়র পদে প্রার্থীর তালিকায় আছে। সিদ্ধান্ত এখন কেন্দ্রের।”

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন: “আমাদের তৈরি করা তালিকাটি ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে শুধু মেয়র প্রার্থীর নাম রয়েছে। কাউন্সিলর পদের প্রার্থী স্থানীয় জামায়াত চূড়ান্ত করেছে। কেন্দ্র থেকে নাম ঘোষণা হলে আমরা দ্রুত তা প্রকাশ করব। যিনি এই বন্দরনগরীকে ঢেলে সাজাতে পারবেন, সে রকম প্রার্থীকেই আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি।”

৪১ ওয়ার্ডে প্রস্তুত কাউন্সিলর প্রার্থীরাও

জামায়াত শুধু মেয়র পদেই নয়, ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছে। কেন্দ্র থেকে মেয়র প্রার্থীর গ্রিন সিগনাল পাওয়ামাত্রই কাউন্সিলরদের নামও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।