পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও সড়কে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ কয়েকটি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
১. ফিটনেসবিহীন ও পুরনো গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
ঈদের আগে ও পরে কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন বা চলাচলের অনুপযোগী পুরনো গাড়ি মহাসড়কে নামানো যাবে না। বিআরটিএ জানিয়েছে, গ্যারেজে পড়ে থাকা লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি রং করে নামানোর চেষ্টা করলে মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২. পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ
ট্রাক, পিকআপ ভ্যান বা কাভার্ড ভ্যানে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতি বছর পণ্যবাহী যানে যাতায়াত করতে গিয়ে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে। এটি রোধে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোবাইল কোর্ট মোতায়েন থাকবে।
৩. অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও বেশি যাত্রী নেওয়া
বাস কাউন্টারগুলোতে ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে ওই বাসের রুট পারমিট বাতিলসহ জেল-জরিমানা করা হবে। এছাড়া ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন না করতে মালিক সমিতিকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
৪. তিন দিন পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ
ঈদের তিন দিন আগে থেকে মহাসড়কে সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, পচনশীল দ্রব্য এবং গার্মেন্টস পণ্যবাহী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
৫. হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ
দূরপাল্লার যাত্রায় দক্ষ ও লাইসেন্সধারী চালক নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই সহকারী বা হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। চালকদের ক্লান্তি দূর করতে পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মালিকদের।
৬. নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও মনিটরিং
বিআরটিএ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হয়েছে। যেকোনো অভিযোগ বা দুর্ঘটনার তথ্যের জন্য হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন টার্মিনালে ভিজিল্যান্স টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করবে।
যানবাহন চলাচল নিরবিচ্ছিন্ন রাখার নিমিত্ত যে কোনও প্রয়োজনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে যোগাযোগের হটলাইন নম্বর ১৬১০৭। মোবাইল নম্বর- ০১৫৫০০৫১৬০৬ এবং ০১৫৫০০৫৬৫৭৭-এ যোগাযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সতর্কবার্তা: বিআরটিএ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এবারের ঈদে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। আইন অমান্যকারী গাড়ি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হতে পারে।