মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকটের মাঝেই স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। দূরপাল্লা ও গণপরিবহনের ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) রাত থেকেই বাসগুলো ফিলিং স্টেশন থেকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ করতে পারবে।
সেতুমন্ত্রীর ঘোষণা
শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের সীমা আর থাকছে না। দূরপাল্লা ও গণপরিবহনে তেলের রেশনিং আজ রাত থেকেই উঠে যাচ্ছে।”
মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, “রাত থেকে বাসগুলো পর্যাপ্ত তেল পাবে, ফলে জনভোগান্তি কমবে এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে।”
রেশনিংয়ের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল-আমেরিকার মধ্যে প্রত্যক্ষ সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে এবং তীব্র সংকট দেখা দেয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে গত ৬ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দেয়। বিপিসির ওই নির্দেশনা অনুযায়ী:
মোটরসাইকেল: দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার।
ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেটকার): দিনে সর্বোচ্চ ১০ লিটার।
এসইউভি/মাইক্রোবাস: দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার।
লোকাল বাস/পিকআপ: দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল।
দূরপাল্লার বাস/ট্রাক: দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল।
ব্যক্তিগত যানবাহনে রেশনিং বহাল
গণপরিবহনের ক্ষেত্রে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়া হলেও ব্যক্তিগত যানবাহনের (মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, এসইউভি) ক্ষেত্রে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। অর্থাৎ, ৬ মার্চের বিপিসির বেঁধে দেওয়া সীমা অনুযায়ীই ব্যক্তিগত গাড়িগুলোকে তেল সংগ্রহ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রমজান ও আসন্ন ঈদের আগে গণপরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার এই ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে যুদ্ধের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।