১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:০৪:২৮ অপরাহ্ন


‘ভীতি ও নাভিশ্বাস’, মোবাইল কোর্ট ও ‘সোশ্যাল পানিশমেন্ট’, পাম্প মালিকদের আল্টিমেটাম!
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১১ ১৯:৩৪:৫৬
‘ভীতি ও নাভিশ্বাস’, মোবাইল কোর্ট ও ‘সোশ্যাল পানিশমেন্ট’, পাম্প মালিকদের আল্টিমেটাম!


জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং, মোবাইল কোর্টের কঠোর নজরদারি এবং পাম্পে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনের চাপে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর স্কাই সিটি হোটেলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা সরকারের বর্তমান তদারকি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

‘ভীতি ও নাভিশ্বাস’ পরিস্থিতি

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক অভিযোগ করেন, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, “প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে এখন এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। প্রশাসনের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে আমরা নাজেহাল হচ্ছি, অথচ আমাদের সম্মান রক্ষায় কোনো সহায়তা মিলছে না।”

মোবাইল কোর্ট ও ‘সোশ্যাল পানিশমেন্ট’

অবৈধ মজুদ ও চোরাচালান ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে পাম্প মালিকদের দাবি, এই পদ্ধতি তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে। নাজমুল হকের ভাষায়, “পুলিশ নিয়ে যেভাবে মোবাইল কোর্ট ঢোকানো হয়, তাতে মনে হয় ডাকাত বা সন্ত্রাসী ধরতে আসা হয়েছে। এটি পাম্প মালিকদের এক ধরনের ‘সোশ্যাল পানিশমেন্ট’ বা সামাজিক শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে বলেন, বিপিসি চাইলে আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ও ডিসপেনসারের মিটার রিডিং মিলিয়েই অনিয়ম ধরতে পারে, সে জন্য ঘটা করে মোবাইল কোর্টের প্রয়োজন নেই। তবে অসাধু উপায়ে মজুদ বা অনিয়মকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মোটরসাইকেলের জ্বালানি সীমা ও জটলা

রাইড-শেয়ারিং মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক ৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল দেওয়ার নতুন নির্দেশের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, পাম্পে প্রতিটি বাইকের নিবন্ধন ও অ্যাপের তথ্য যাচাই করতে যে সময় লাগবে, তাতে লাইনে থাকা অন্য গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারের অবস্থান ও ‘প্যানিক বায়িং’

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন:

  • দেশে জ্বালানির কোনো তাৎক্ষণিক সংকট নেই, আমদানি ও সরবরাহ সচল আছে।

  • পাম্পে দীর্ঘ লাইন মূলত ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার ফল।

  • গত এক সপ্তাহে চাহিদার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সরবরাহ দেওয়া হলেও মানুষের আতঙ্ক কাটানো যায়নি।

পাম্প মালিকদের আল্টিমেটাম

সংবাদ সম্মেলন থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয়: ১. মনিটরিংয়ের নামে হয়রানি ও ‘সোশ্যাল পানিশমেন্ট’ বন্ধ করা। ২. উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলসহ রাজধানীর বাইরের পাম্পগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা। ৩. পাম্পের কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি জানমালের নিরাপত্তা ও হয়রানি বন্ধ না হয়, তবে তারা পাম্প বন্ধ রেখে ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবেন। একই সাথে সাধারণ মানুষকে ট্যাংক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।