১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৫৭:২৩ অপরাহ্ন


হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ আটকাবে না ইরান: জ্বালানি আমদানিতে কাটছে শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১০ ২০:৫৬:০৫
হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ আটকাবে না ইরান: জ্বালানি আমদানিতে কাটছে শঙ্কা হরমুজ প্রণালি


মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ইরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের তেল ও এলএনজিবাহী জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হরমুজ প্রণালি ও ইরানের নিশ্চয়তা

বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এই রুটটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশের আগে ইরানকে অবহিত করলে সেগুলোকে নিরাপদ পথ দেওয়া হবে। এই আশ্বাসের ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া তাৎক্ষণিক উদ্বেগ অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে।

দেশে পৌঁছাচ্ছে ডিজেলের বড় চালান

এদিকে, জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি ট্যাংকার সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে:

চলতি সপ্তাহেই আরও চারটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এই পাঁচটি চালানের মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দিয়ে দেশের প্রায় ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

বর্তমানে সরকার দৈনিক প্রায় ৯ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করছে, যেখানে স্বাভাবিক চাহিদা থাকে প্রায় ১২ হাজার টন।

আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি ও বিকল্প ব্যবস্থা

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এপ্রিল মাসের চাহিদা মেটাতে সরকার 'সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে' প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, ওমান ও কুয়েত—এই আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করছে।

বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সহায়তার আশ্বাস

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে দুই প্রতিবেশী পরাশক্তি চীন ও ভারত। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, তাই সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

বাজার তদারকিতে কঠোর সরকার

জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি রোধে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করেছে। জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।