১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৫:০০ অপরাহ্ন


টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নাজুক অবস্থা ভারতের
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০৬ ১৬:৪৩:৩৬
টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নাজুক অবস্থা ভারতের ছবি: সংগৃহীত


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড মানেই এক রোমাঞ্চকর লড়াই, যেখানে পরিসংখ্যানের পাতায় কিউইদের দাপট বরাবরই ভারতীয় সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের বিশ্বমঞ্চে এই দুই দলের দ্বৈরথের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিউজিল্যান্ড ভারতের জন্য এক কঠিন বাধা বা 'চেইন-ফ্যাক্টর' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

স্মৃতির পাতা ওল্টালে প্রথমেই ভেসে ওঠে ২০০৭ সালের সেই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা। জোহানেসবার্গে মহেন্দ্র সিং ধোনির তরুণ ভারতের বিপক্ষে ড্যানিয়েল ভেট্টরি নিউজিল্যান্ড ১০ রানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও কিউইদের হারাতে পারেনি। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে নাগপুরের টার্নিং পিচে নিউজিল্যান্ডের স্পিন বিষে নীল হয়েছিল ভারত। মাত্র ৭৯ রানে অল-আউট হয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে হার মানতে হয়েছিল কোহলি-ধোনিদের। নিউজিল্যান্ডের স্পিনারদের সেই দাপট ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুর্বলতাকে প্রকট করে তুলেছিল।

ইতিহাসের ধারা বজায় ছিল ২০২১ সালের বিশ্বকাপেও। দুবাইয়ের মাঠে নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট আর ইশ সোধির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে খেই হারিয়ে ফেলেছিল ভারত। সেই ম্যাচেও কিউইরা অনায়াস জয় তুলে নিয়ে ভারতকে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে প্রায় ছিটকে দিয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় ছিল অধরা এক স্বপ্ন।

তবে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে এসে দৃশ্যপট বদলে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারত নিউজিল্যান্ডের সেই জয়রথ থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়। ভারতের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ এবং টপ-অর্ডারের দৃঢ়তা কিউইদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত কেবল প্রতিশোধই নেয়নি, বরং বড় মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের সেই মানসিক বাধাও অতিক্রম করে।

সামগ্রিকভাবে, ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপের ইতিহাস হলো একধারে নিউজিল্যান্ডের কৌশলী ক্রিকেট আর অন্যদিকে ভারতের সেই কৌশল ভাঙার নিরন্তর চেষ্টার গল্প। কিউইরা বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা বড় টুর্নামেন্টে বড় দলগুলোর বিপক্ষে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, আর ভারত দেখিয়েছে ধৈর্যের সাথে কীভাবে ইতিহাসের চাকা নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিতে হয়।