১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন


খনিজকে ‘অস্ত্র’ বানানোর বিরুদ্ধে জিনপিংয়ের সামনে মোদির সতর্কবার্তা!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-১৩ ১৭:৪০:৩৯
খনিজকে ‘অস্ত্র’ বানানোর বিরুদ্ধে জিনপিংয়ের সামনে মোদির সতর্কবার্তা! ছবি: সংগৃহীত


দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক সংকট নিয়ে ক্ষোভ; সরবরাহ ব্যবস্থা রক্ষা ও মহামারির আগাম সতর্কতায় একমত নেতারা

        প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খনিজ সম্পদকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের’ মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে ব্রিকস (BRICS) জোটের রাষ্ট্রপ্রধানদের সতর্ক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে কৌশলগত সম্পদকে এভাবে অস্ত্র বানানোর প্রবণতা বিশ্বজুড়ে যৌথ উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও সহযোগিতার দীর্ঘদিনের অর্জনগুলোকে চিরতরে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানী দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি উপস্থিতিতে মোদি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পাওয়া সংঘাত ও উত্তেজনা কেবল নির্দিষ্ট কোনো সীমান্ত বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনকে সরাসরি বিপর্যস্ত করছে।

মোদি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বৈশ্বিক মহামারি, চরম জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) ব্যাহত হওয়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে—আজকের এই চরম পরস্পরনির্ভরশীল বিশ্বে কোনো সংকটই আর এক জায়গায় আবদ্ধ থাকে না।" সরাসরি নাম না বললেও, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অতি-গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়া এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ব্রিকস সম্মেলনের এই সেশনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ সদস্য ও আমন্ত্রিত দেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরিতে ব্রিকস নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন বলে জানান মোদি। তিনি বলেন, সংক্রামক রোগ ও যেকোনো ভবিষ্যৎ মহামারি প্রতিরোধে তথ্য সমন্বয়ের জন্য একটি আন্তর্জাতিক নির্দেশিকাও ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে চারটি মূল ক্ষেত্র—সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা, উদ্ভাবন, নতুন সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে নেতাদের উপস্থিতিতে প্রকাশ করা যৌথ ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’য় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে তীব্র গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সাথে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করতে পারে এমন যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়।

ঘোষণাপত্রে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান’ নীতিতে ব্রিকসের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে গাজায় জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সুরক্ষাবাদী শুল্কনীতি অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানায় ব্রিকস জোট।