১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০৫:৩৩ অপরাহ্ন


ঈদের ৭ দিনের ছুটিকে যেভাবে ১২ দিন করতে পারবেন
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০৫ ১৪:৪৭:০৩
ঈদের ৭ দিনের ছুটিকে যেভাবে ১২ দিন করতে পারবেন ছবি: সংগৃহীত


আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে, যা সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য এক বিরল সুযোগ তৈরি করতে যাচ্ছে। আজ ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৮ মার্চ বুধবারকে নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটি থেকে শুরু করে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের একটি দীর্ঘ ছুটির বলয় তৈরি হয়েছে। তবে এই সাত দিনের ছুটিকে কৌশলে ব্যবহার করে সরকারি চাকুরিজীবীরা চাইলে টানা ১২ দিনের এক বিশাল অবকাশ যাপন করতে পারেন, যা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ছুটির এই গাণিতিক হিসাবটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সরকারি পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৭ মার্চ মঙ্গলবার শবে কদরের ছুটি এবং ১৮ মার্চ বুধবার নতুন ঘোষিত নির্বাহী আদেশের ছুটি। এরপর ১৯ ও ২০ মার্চ যথাক্রমে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ঈদের আগের ছুটি এবং ২১ মার্চ শনিবার সম্ভাব্য ঈদুল ফিতরের দিন। ঈদের পরের দুই দিন অর্থাৎ ২২ ও ২৩ মার্চ (রবি ও সোমবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি বহাল থাকছে। এই সাত দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পর ২৪ মার্চ মঙ্গলবার এবং ২৫ মার্চ বুধবার অফিস খোলা রয়েছে। তবে এর ঠিক পরদিনই অর্থাৎ ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবসের সাধারণ ছুটি। এর পরবর্তী দুই দিন অর্থাৎ ২৭ ও ২৮ মার্চ যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে মাঝখানের ওই দুই দিন অর্থাৎ ২৪ ও ২৫ মার্চ যদি কোনো চাকুরিজীবী ব্যক্তিগত বা নৈমিত্তিক ছুটি (সিএল) নিতে পারেন, তবে তিনি ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত একটানা ১২ দিনের ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

এই দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হওয়ায় এবার ঈদযাত্রায় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণত ঈদের ছুটিতে একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়ার কারণে মহাসড়কগুলোতে যে ভয়াবহ যানজট ও জনভোগান্তি তৈরি হয়, এবার ছুটির পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই চাপ অনেকটাই কমে আসবে। মানুষ ধাপে ধাপে ঢাকা ছাড়ার সুযোগ পাবে, যা পরিবহন ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। তবে এই বাড়তি দুই দিনের ছুটি পাওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তার অনুমোদন এবং ব্যক্তিগত ছুটির প্রাপ্যতার ওপর। বিশেষ করে জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জন্য এই সুযোগ সীমিত হলেও সাধারণ দপ্তরের চাকুরিজীবীরা এই ১২ দিনের মহোৎসবের প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে শুরু করেছেন। মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের ফলে এবারের ঈদুল ফিতর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা ছুটির স্মৃতি হয়ে থাকবে।