১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৬:০৭ অপরাহ্ন


ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০২-২৮ ১৫:১৩:১০
ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা ছবিঃ সংগৃহীত


২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে, যেখানে ইরান ও ইসরায়েল সরাসরি একে অপরের ওপর ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করেছে। আজ ভোরের দিকে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা করে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা ইরানের সম্ভাব্য বড় ধরনের কোনো হামলা নস্যাৎ করতেই এই আগাম আক্রমণ বা 'প্রি-এম্পটিভ অ্যাটাক' চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানে সরাসরি সমর্থনের কথা জানিয়ে একে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সরকারি প্রশাসনিক ভবন এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে, যার ফলে জমহৌরি ডিস্ট্রিক্টসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

ইসরায়েলের এই বিশাল অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরান খুব দ্রুত পাল্টা আঘাত হানে। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান থেকে ইসরায়েল অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া শুরু হয়। তেহরান এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে ইতিমধ্যেই একটি গোপন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের এই কড়া জবাবের কারণে ইসরায়েল জুড়ে এখন উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে এবং তেল আবিবসহ প্রধান শহরগুলোতে সাইরেনের শব্দে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। নাগরিকরা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিচ্ছেন এবং দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের জনসমাগম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এই মুহূর্তে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এক প্রকার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরান এবং ইরাক তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে এবং জর্ডানও তাদের সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে যে, এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে সরাসরি এবং বড় মাপের সংঘাত। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রাশিয়া ও চীন দুই পক্ষকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানালেও বর্তমানে পাল্টাপাল্টি এই আক্রমণ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।