১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:০৪:২৯ অপরাহ্ন


ফ্যামিলি কার্ডের টাকার পরিমান কত জানালেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০২-২৪ ১৭:১৩:৩০
ফ্যামিলি কার্ডের টাকার পরিমান কত জানালেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন


সারাদেশের নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৫ সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন এবং আজ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে এটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবার প্রতি মাসে দুই হাজার পাঁচশ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহযোগিতা লাভ করবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্মীয় বৈষম্য বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে বিবেচনায় নেওয়া হবে না। এটি দেশের সকল যোগ্য নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করা হবে।

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এটি আপাতত পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে। আগামী চার মাসের মধ্যে এই প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুরুতে হয়তো একটি উপজেলার পুরো এলাকা একসাথে কাভার করা সম্ভব হবে না, তাই পর্যায়ক্রমে একটি ওয়ার্ড বা একটি ইউনিয়ন থেকে কাজ শুরু করে তা পরবর্তীকালে দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিস্তৃত করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার দলীয় বা গোয়েন্দা সম্পৃক্ততা ছাড়াই মাঠ পর্যায়ে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের বাছাই করা হবে। ঘরে বসে তালিকা তৈরির কোনো সুযোগ এখানে রাখা হয়নি।

পুরো কার্যক্রমটি একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নেতৃত্বে থাকবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহের কাজ তদারকি করার জন্য একজন প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে এখানে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট যাচাই বা ‘চেকিং ও রি-চেকিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, যাতে প্রকৃত অভাবী মানুষরা কোনোভাবেই বাদ না পড়েন।

অর্থসংস্থানের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, যেহেতু বর্তমান অর্থবছরটি শেষের দিকে, তাই আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ থেকে এই বিশাল অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে। তবে আগামী অর্থবছর থেকে এটি নিয়মিত জাতীয় বাজেটের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং উদ্বোধনের সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে একটি উপজেলায় উপস্থিত থাকবেন। উদ্বোধনের চূড়ান্ত তারিখ ও স্থান সম্পর্কে আগামী ১০ মার্চের আগেই বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।