০৬ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ০৩:৩৬:১০ পূর্বাহ্ন


আফগানিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের!
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১১-০৫ ১৯:২১:২৬
আফগানিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের! ছবি: সংগৃহীত


আল আমেরাতে ২৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১৮ রানে অলআউট যুবারা; ১১৩ রানের লজ্জার হার

      অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের এবারের আসরে নিজেদের মিশনটা অত্যন্ত হতাশাজনকভাবে শুরু করল বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী আফগানিস্তান যুবাদের বিপক্ষে রীতিমতো ধরাশায়ী হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আফগানদের দেওয়া মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত ১১৩ রানের এক বিশাল ও বড় ব্যবধানে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে।

ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আফগানিস্তান। তবে ইনিংসের শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে আফগান শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশি বোলাররা। দলীয় মাত্র ৫৮ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৪টি উইকেট হারিয়ে ফেলা আফগানিস্তান তখন বেশ বিপাকে পড়েছিল।

কিন্তু একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের স্কোর সচল রাখেন মিডল অর্ডার ব্যাটার শাহ ফয়সাল রাহিমি। সতীর্থরা নিয়মিত বিরতিতে আসা-যাওয়ার মিছিলে থাকলেও রাহিমি একাই দলের হাল ধরে অত্যন্ত দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলেন। ৫ নম্বরে ক্রিজে নেমে তিনি ৮টি চমৎকার চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে দলের পক্ষে দুর্দান্ত ৮৩ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন। তাঁর এই অনবদ্য দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারগুলোতে সব উইকেট হারিয়ে ২৩১ রানের সম্মানজনক পুঁজি দাঁড় করায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাফিউল আলম তামিম, যিনি প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ধসিয়ে দিয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন।

জবাবে জয়ের জন্য ২৩১ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়কর ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই আফগান পেসারদের তোপের মুখে পড়ে দলীয় মাত্র ২৭ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৫টি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বাংলাদেশ যুবারা। খাদের কিনারা থেকে সেই প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

পরবর্তী ব্যাটাররা ক্রিজে টিকতে না পারায় জয়ের তো প্রশ্নই আসে না, বরং পরাজয়ের ব্যবধান কমানোই তখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। দলের পক্ষে ওপেনার জারিফ সিয়াম সর্বোচ্চ ৪১ রানের একটি ইনিংস খেলে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে সিয়াম ছাড়া মিডল ও লোয়ার অর্ডারের মাত্র দুজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে সক্ষম হন। দলের পক্ষে আটে নামা রবিউল হাসান অনিক ৩৩ রান এবং ৯ নম্বরে নামা রুবায় ইসলাম রিজন ২১ রানের সংক্ষিপ্ত অবদান রাখেন। ফলে দলীয় ইনিংস মাত্র ১১৮ রানেই গুটিয়ে যায়।

আফগানদের মারাত্মক বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশি ব্যাটাররা। আফগানিস্তানের পক্ষে ধ্বংসাত্মক বোলিং করে ৩টি করে উইকেট ভাগ করে নেন নুর আলি নিয়াজি, আমির হামজা এবং সামি মুবারেজ। ম্যাচজুড়ে চমৎকার ব্যাটিং অবদান ও দলের জয় নিশ্চিত করায় ম্যাচসেরার পুরস্কারের ট্রফি ওঠে শাহ ফয়সাল রাহিমির হাতে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এই বড় পরাজয় তরুণ টাইগারদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের ধাক্কা দিল বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।