টঙ্গীর মাদরাসায় ভাঙচুরের মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশ; আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর জজ আদালতে আত্মসমর্পণের শর্ত
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিভাবক শাহজালাল রুমীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে জামিনের শর্ত হিসেবে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে গাজীপুর মহানগর জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর, ২০২৬) বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন।
আদালতে শাহজালাল রুমীর জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন এবং অ্যাডভোকেট এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা।
মামলার বিবরণ ও নথি থেকে জানা যায়, টঙ্গীর একটি স্থানীয় মাদরাসায় সাত বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীর ওপর যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সংক্ষুব্ধ জনতা ও স্বজনদের মধ্যে মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে ওই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিভাবক শাহজালাল রুমীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাটি পরবর্তীতে দেশের প্রধান গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করে। এই অবস্থায় আইনি প্রতিকার চেয়ে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানান শাহজালাল রুমী। আজ ওই আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন জানান, উচ্চ আদালতের দেওয়া লিখিত আদেশের কপি পর্যালোচনা করে যথাসময়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।