০৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০৫:৫৪:২৩ অপরাহ্ন


আদালতে হাজিরা না দিয়ে নতুন আইনি জটিলতায় নোরা ফাতেহি!
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১১-০৪ ১৬:৫৯:৩২
আদালতে হাজিরা না দিয়ে নতুন আইনি জটিলতায় নোরা ফাতেহি! অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। ছবি: সংগৃহীত


২০০ কোটি রুপির চাঁদাবাজি মামলায় সমন জারি; অসন্তোষ প্রকাশ করে দিল্লির আদালতের নির্দেশ আগামী ৬ নভেম্বর হাজিরার

     ২০০ কোটি রুপির চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজির মামলায় ফের নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন বলিউড ও আইটেম গার্লখ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। নির্ধারিত দিনে সশরীরে আদালতে হাজির না হওয়ার কারণে তাঁর ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতের দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। এই অনুপস্থিতির জেরে অভিনেত্রীর নামে নতুন করে কড়া সমন জারি করা হয়েছে এবং আগামী ৬ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালত ও আইনি সূত্রে জানা যায়, আলোচিত সুকেশ চন্দ্রশেখর কাণ্ডের এই মামলায় গত ২ নভেম্বর নোরাকে আদালতে সশরীরে উপস্থিত থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে ব্যক্তিগত কারণ ও পূর্বনির্ধারিত পেশাগত ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে নোরার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে, অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সমন হাতে পাওয়ার পাশাপাশি তাঁর আগে থেকেই কিছু বাণিজ্যিক ও পেশাগত চুক্তি সম্পন্ন করা ছিল, যার কারণে হুট করে আদালতে হাজির হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে আইনজীবীরা তাঁর হাজিরা থেকে সাময়িক অব্যাহতির আনুষ্ঠানিক আবেদনও জানান। তবে আদালতের বিচারক এই যুক্তি ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।

অন্যদিকে নোরার আইনি দলের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, এই পুরো মামলায় অভিনেত্রী কোনো মূল অভিযুক্ত বা অপরাধী নন। বরং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং সহযোগিতার জন্যই তাঁকে কেবল একজন ‘সাক্ষী’ হিসেবে তলব করা হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, নোরা কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বা অপরাধের সঙ্গে বিন্দুমাত্র জড়িত নন এবং অতীতেও তদন্তকারী সংস্থাকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে উঠে এসেছিল যে, প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখর ও তাঁর স্ত্রী লীনা মারিয়া পলের সঙ্গে নোরার যোগাযোগ ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নোরা স্বীকার করেছিলেন যে, একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার পারিশ্রমিক হিসেবে তাঁকে নগদ অর্থের পরিবর্তে একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ (BMW) গাড়ি ও গুচির (Gucci) ব্যাগের মতো বেশ কিছু দামি উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সুকেশের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রেমের বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা বরাবরই দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী। পরবর্তী সময়ে সুকেশের প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর তিনি নিজে থেকেই সমস্ত যোগাযোগ চিরতরে ছিন্ন করে দেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, জেলবন্দি থাকা অবস্থায় সুকেশ চন্দ্রশেখর নিজ হাতে লেখা একটি চিঠিতে নোরা ফাতেহিকে নিয়ে নানা বিস্ফোরক ও পাল্টা অভিযোগ তুলেছিলেন। সুকেশের দাবি ছিল, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি কেনার জন্য তিনি নাকি নোরাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করেছিলেন। এমনকি বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে সুকেশের সুসম্পর্ক থাকা নিয়ে নোরা তীব্র ঈর্ষান্বিত ছিলেন বলেও চিঠিতে দাবি করেন ওই প্রতারক। তবে সুকেশের এই সমস্ত দাবির সত্যতা বা আইনি ভিত্তি আজও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

উল্লেখ্য, কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় আর্থিক প্রতারণার মাধ্যমে দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শিবিন্দার সিং ও মলবিন্দার সিংয়ের স্ত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ চাঁদাবাজির বিশাল অর্থ দিয়ে কেনা বিভিন্ন বহুমূল্য দামি উপহার বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজসহ বেশ কয়েকজন সেলিব্রিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এখন আগামী ৬ নভেম্বর নির্ধারিত দিনে আদালতে নোরা ফাতেহি সশরীরে উপস্থিত হন কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে পুরো মিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট আইনি মহলের।