১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:৪৫:০২ পূর্বাহ্ন


হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব ইসরায়েলের, প্রত্যাখ্যান করলেন সৌদি যুবরাজ!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-১৪ ১৪:১৪:০৩
হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব ইসরায়েলের, প্রত্যাখ্যান করলেন সৌদি যুবরাজ! সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান I ছবি: সংগৃহীত


সৌদি আরবের ওপর হুতিদের তীব্র হামলার প্রেক্ষাপটে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দেয় তেল আবিব; অভ্যন্তরীণ জনরোষের আশঙ্কায় তা সরাসরি নাকচ করলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

       ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের চলমান সামরিক আগ্রাসন ও হামলার মোকাবিলায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়ে যৌথভাবে লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরায়েল। তবে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ জনরোষের কথা চিন্তা করে তেল আবিবের সেই সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে প্রত্যাখ্যান করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

গত সোমবার ইসরায়েলি প্রভাবশালী দৈনিক সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন মধ্যস্থতায় রিয়াদের সম্মতি আদায়ের জোর চেষ্টা চালানো হলেও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইসরায়েলের এই সামরিক সহযোগিতার প্রস্তাবে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাননি। মূলত ইসরায়েলের সঙ্গে এ ধরনের দৃশ্যমান সামরিক সহযোগিতা সৌদি সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ওয়াকিবহাল অন্য একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এই সামরিক সহযোগিতার হাত বাড়ানোর মাধ্যমে মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চেয়েছিল ইসরায়েল, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ বা আব্রাহাম অ্যাকর্ড গোত্রের চুক্তির পথ অনেকটাই সুগম করত। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। রিয়াদ বরাবরই তাদের কূটনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও অনমনীয় থেকে জানিয়েছে যে, ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানের ওপরই কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি নির্ভরশীল।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের কৌশলগত স্থাপনা ও বেসামরিক বিমানবন্দরগুলোর ওপর হুতিদের তীব্র ও বেপরোয়া হামলার প্রেক্ষাপটেই এই গোপন কূটনৈতিক তৎপরতার খবরটি সামনে এল। গত শনিবার রিয়াদের প্রধান কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এক ধ্বংসাত্মক হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। এর ঠিক পরের দিন রবিবার একই বিমানবন্দরে চালানো আরেকটি হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও আরও ১১ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও একাধিক প্রদেশ দখল করে নিলে দেশটিতে সর্বগ্রাসী গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে রক্ষার্থে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই গৃহযুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে একটি কার্যকরী যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুদিন শান্ত থাকলেও, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাতের পারদ চড়তে শুরু করেছে।