১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৪:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন


মমতা-কেজরিওয়ালসহ শত শত বিক্ষোভকারী আটক, অবরুদ্ধ দিল্লি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-১০ ১৮:২৬:৫৫
মমতা-কেজরিওয়ালসহ শত শত বিক্ষোভকারী আটক, অবরুদ্ধ দিল্লি ছবি: সংগৃহীত


নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও ও ‘ককরোচ’ আন্দোলনের জেরে স্তব্ধ রাজধানী; মেট্রো বন্ধ, মোবাইল ইন্টারনেট স্থগিত

       ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। ভোটার তালিকার বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ঠেকাতে পুরো দিল্লিজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং আন্দোলনকারী প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ শত শত রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন ও বাজার সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। মুম্বাই থেকে বিমানযোগে দিল্লিতে পৌঁছানো মাত্র উড়োজাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে পুলিশ আটক করে। উড়োজাহাজের ভেতরের একটি ভিডিওতে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দীপকেকে বলতে শোনা যায়, "আমি গ্রেপ্তার হতে এসেছি, আমাকে গ্রেপ্তার করুন। আপনাদের ভয় পাই না।" এ সময় বিমানে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম একযোগে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে রাজপথে নামেন বিরোধীরা। সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ দেওয়ার এই বিতর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের ভেতরেই দুই কমিশনার খোদ সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার এ কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অসংগত সুবিধা পাচ্ছে।

যন্তর মন্তরে নির্ধারিত মূল সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই এলাকাটি হাজার হাজার পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে অবরুদ্ধ করা হলেও আন্দোলনকারীরা দিল্লির বিভিন্ন অংশ যেমন—স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চত্বর, দিল্লি হাট হস্তশিল্প বাজার ও সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। অনেক বিক্ষোভকারীকে পুলিশ টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে সরিয়ে নিয়ে যায়। এর মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে রয়টার্সসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিককেও সাময়িকভাবে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা কে সি বেণুগোপাল দিল্লির এই কঠোর বিধিনিষেধের কড়া সমালোচনা করে বলেন, "মোদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।" যদিও সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের রুখে দিয়ে গণতন্ত্রের জয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৭ সালে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ার আগে ভোটার তালিকা কারচুপির এই ইস্যুটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।