১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৫:৩৯:৪০ অপরাহ্ন


‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আমাকে ক্ষমা করে দিন’, কেন বললেন ইলন মাস্ক?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-১০ ১৭:২১:৩৮
‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আমাকে ক্ষমা করে দিন’, কেন বললেন ইলন মাস্ক? ছবি: সংগৃহীত


ভারতে স্টারলিংকের লাইসেন্স প্রাপ্তিতে বিলম্ব নিয়ে মুকেশ আম্বানি ও ইলন মাস্কের তীব্র বাক্যযুদ্ধ; সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ

      ভারতে স্যাটেলাইট ভিত্তিক স্পিড ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ চালুর অনুমোদন পেতে দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা ও বিলম্বের পর ভারতের শীর্ষ ধনকুবের রিলায়েন্সের কর্ণধার মুকেশ আম্বানির ওপর মারাত্মক ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্পেসএক্স ও এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্ক। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আম্বানিকে ভারতের ‘বস’ অ্যাখ্যা দেওয়ার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সরাসরি ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে তীব্র বিদ্রুপ করেছেন এই বৈশ্বিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক ব্যঙ্গাত্মক স্ট্যাটাসে ভারতের বাজারব্যবস্থায় আম্বানির আধিপত্যের প্রতি তোপ দেগে মাস্ক লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনি যে ভারতের প্রকৃত ক্ষমতাধর ব্যক্তি, তা বুঝতে না পারার জন্য বিনীতভাবে ক্ষমা চাইছি।’ পরবর্তীতে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, বাজারে অন্যান্য প্রতিযোগীকে প্রবেশ করতে না দিয়ে ভারতের বিশাল টেলিকম বাজারে নিজের একচ্ছত্র একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বজায় রাখতেই স্টারলিংককে বাধা দিচ্ছেন রিলায়েন্স চেয়ারম্যান।

প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মাস্ক লেখেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, আপনি ভারতের মহান জনগণের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখে তাদের শোষণ চালিয়ে যেতে চাইবেন। তবুও, স্টারলিংককে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেয়ার বিষয়টি কি বিবেচনা করবেন?’ তিনি যুক্তি দেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন প্রচলিত যোগাযোগ অচল হয়ে পড়ে, তখন স্টারলিংক জীবন রক্ষায় অপরিহার্য। ১৬৫টির বেশি দেশে অনুমোদিত স্টারলিংক গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের প্রতিটি শর্ত মেনে চলা সত্ত্বেও অনুমোদন না পাওয়ার পেছনে অদৃশ্য বাধাকে দায়ী করেন তিনি।

তবে মাস্কের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ভারত সরকার। শুক্রবার দেশটির টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া স্পষ্টভাবে জানান, ভারত কোনো নির্দিষ্ট খাতেই একচেটিয়া আধিপত্য অনুমোদন করে না এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের অংশ হিসেবেই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বর্তমানে রিলায়েন্সের ‘জিও স্যাটেলাইট’ ও এয়ারটেল-সমর্থিত ‘ইউতেলসাত ওয়ানওয়েব’-এর মতোই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে স্টারলিংক।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠক ও মুম্বাইতে টেসলার শোরুম চালুর পরও ভারতে মাস্কের ব্যবসা বাণিজ্যিকভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ভারতের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড বাজারের ৮০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণকারী রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ও আইনি জটিলতায় মাস্ক ও ভারত সরকারের সম্পর্ক এখন জটিল রূপ নিয়েছে।