১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৪:৫৯:১৩ অপরাহ্ন


১ মিনিটে দুই ট্রেনের শতভাগ টিকিট উধাও, ক্ষোভ আশফাক নিপুণের!
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-০৮ ১৯:২৫:০৯
১ মিনিটে দুই ট্রেনের শতভাগ টিকিট উধাও, ক্ষোভ আশফাক নিপুণের! জনপ্রিয় নির্মাতা আশফাক নিপুণ I ছবি: সংগৃহীত


অনলাইনে টিকিট গায়েবকে ‘কমার্স ফিকশন’ আখ্যা; কালোবাজারি ও অদৃশ্য টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙার জোরালো দাবি

      বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট প্ল্যাটফর্মে সকাল ৮টায় টিকিট উন্মুক্ত করার মাত্র ১ মিনিটের মাথায় কক্সবাজারগামী দুটি ট্রেনের সমস্ত টিকিট উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা আশফাক নিপুণ। সাধারণ যাত্রীদের ক্রমাগত টিকিট না পাওয়ার ভোগান্তি এবং পেছনের অশুভ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য তুলে ধরে এই পুরো প্রক্রিয়াকে ফরাসি লেখক জুল ভার্নের বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর সাথে তুলনা করে রসাত্মকভাবে ‘কমার্স ফিকশন’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত শেয়ার করেন নির্মাতা।

পোস্টে আশফাক নিপুণ জানান, আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে বয়োবৃদ্ধ সেজো মামাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে তিনি ট্রেনের টিকিট কাটার সিদ্ধান্ত নেন। নিয়ম অনুযায়ী যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় টিকিট ছাড়া হবে জেনে সকাল পৌনে আটটা থেকেই মোবাইল হাতে নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন তিনি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি লেখেন, "ঘড়ির কাঁটা ঠিক আটটায় পৌঁছাতেই সার্চ অপশনে ক্লিক করি। চোখের সামনে সারি সারি খালি সিট ভেসে ওঠে। কিন্তু ৮টা বাজতেই টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করার পর ৮টা ১ মিনিটে দেখি গোটা দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ! চোখের পলকে একদম সব ফাঁকা!"

স্বাভাবিক গাণিতিক যুক্তি ও কারিগরি হিসাব তুলে ধরে নিপুণ প্রশ্ন তোলেন, "একটি সিট সিলেকশন, ওটিপি সেন্ড ও পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে রিকনফার্মেশন করতে যেকোনো সাধারণ মানুষের ন্যূনতম সাড়ে ছয় থেকে সাত মিনিট সময় লাগে। সবার হাই-স্পিড ইন্টারনেট থাকলেও পুরো দুটি ট্রেনের হাজারো টিকিট শেষ হতে অন্তত ৮টা ৭ মিনিট লাগার কথা। সেখানে ১ মিনিটে দুটি ট্রেনের শতভাগ টিকিট কীভাবে উধাও হয়? জুল ভার্ন লিখেছিলেন ‘৮০ দিনে বিশ্ব ভ্রমণ’, আর আমাদের রেলওয়ে চালু করল ‘১ মিনিটে দুই ট্রেন গায়েব’-এর কমার্স ফিকশন!"

রেলওয়ের কালোবাজারি চক্রকে দায়ী করে এই নির্মাতা ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলেও এই টিকিট সিন্ডিকেটের ক্ষমতা অপরিবর্তিত থেকে যায়। যে সরকারই আসুক না কেন, এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হয় না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যে সরকার কেবল দেশের রেলওয়ে ও বিমানবন্দর এলাকার শক্তিশালী কালপ্রিট সিন্ডিকেটগুলো ধ্বংস করতে পারবে, তাকে বিনাবাক্যে তিনি ‘সর্বকালের সেরা সরকার’ হিসেবে মেনে নেবেন।

উল্লেখ্য, অনলাইনে টিকিট উন্মুক্ত হতেই তা গায়েব হয়ে যাওয়া ও টিকিট কালোবাজারির এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টি সম্প্রতি উচ্চ আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ায় গড়িয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আমলি-১১) এ বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর মামলাটি অধিকতর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পিবিআইয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন।