১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১২:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন


বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, পিউ বললেন, ‘পুরুষদেরও ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-০১ ১৭:৩১:১৭
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, পিউ বললেন, ‘পুরুষদেরও ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত’ ব্রিটিশ অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ এর I ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ ব্রিটিশ অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউয়ের; নীরবতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর শিথিল শাস্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান

        যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খ্যাতিমান ব্রিটিশ অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ ও কঠোর বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এমন নৃসংশ ও পৈশাচিক ঘটনায় কেবল নারীদের নয়—বরং সমাজের পুরুষদেরও সমপরিমাণ আতঙ্কিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত। একই সাথে যৌন নিপীড়নের মতো সংবেদনশীল ও গুরুতর অপরাধে কেন অনেকে অপরাধমূলক নীরবতা পালন করেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ রক্ষাকে কেন ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়—সে বিষয়েও ঝাঁঝালো প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাটি গত সপ্তাহে এক মামলার পর নতুন করে সামনে আসে। ‘জেন ডো’ ছদ্মনামের ২০ বছর বয়সী এক প্রাক্তন ছাত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁকে মাদক প্রয়োগের মাধ্যমে অচেতন করে সাতজন পুরুষ শিক্ষার্থী মিলে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীর সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতা এবং অপরাধ ঠেকাত যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে তিনি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভ্রাতৃসংঘের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালত ও বিচার বিভাগে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগকারীর আইনজীবীর সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ঘটনাটির সত্যতা মিললেও অপরাধের মাত্রার তুলনায় অত্যন্ত নমনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাতজন অভিযুক্তের মধ্যে মাত্র দুজনকে বহিষ্কার করে প্রশাসন। বাকিদের ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্ত, সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মশালায় অংশ নেওয়া কিংবা অনুসূচনা মূলক প্রবন্ধ লেখার মতো হালকা শাস্তি দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনাটিতে কোনো আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি।

‘আমাদের জন্য ক্ষুব্ধ হও’: পুরুষদের প্রতি পিউয়ের আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে ফ্লোরেন্স পিউ লিখেছেন, "অসহায় তরুণীর সাথে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ ঘটনাটি পড়ার পর থেকে চরম অস্বস্তি, মানসিক অসুস্থতা ও উদ্বেগে ভুগছি। সবচেয়ে বিচলিত করার বিষয় হলো, এমন পৈশাচিক ঘটনা অতীতেও অনবরত ঘটেছে এবং এখনো একইভাবে অব্যাহত রয়েছে।"

নিজের বার্তার একটি বড় অংশজুড়ে সামাজিক সংস্কৃতি ও পুরুষদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন এই অভিনেত্রী। পিউয়ের স্পষ্ট বক্তব্য—যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পুরুষদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। তিনি পুরুষদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লেখেন, "এমন মারাত্মক মুহূর্তেও তোমাদের অনেকেই যখন রহস্যজনকভাবে নীরব থাকো, তখন আমরা নারীরা কীভাবে বিশ্বাস করব যে—সব পুরুষ এক নয়?"

অভিনেত্রী আরও জানতে চান, ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে পূর্বপরিকল্পনা ও পরোক্ষ নীরব সায় থাকে। যারা এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে জেনেও আগে থেকে ঠেকানোর উদ্যোগ নেন না, তাঁদের ভূমিকাও সমানভাবে অপরাধমূলক বলে আখ্যা দেন তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন ফ্লোরেন্স পিউ। তাঁর মতে, ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে লিখিত ক্ষমা চাওয়া বা প্রবন্ধ লেখার মতো শাস্তি ভুক্তভোগীর মর্যাদার ওপর মারাত্মক উপহাস।

তিনি আরও লেখেন, বিশ্বজুড়ে কলেজ, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমাগত নারীদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় এমন ধারণাকে প্রশ্রয় দেয় যে, পুরুষেরা নারীর চরম ক্ষতি করলেও তাদের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়া যাবে না। যখন কোনো প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত পুরুষের ভবিষ্যৎ রক্ষায় নমনীয় হয়, তখন ভুক্তভোগী নারীর কাছে বার্তা যায় যে—তাঁর জীবনের সত্য ও নির্মম অভিজ্ঞতার চেয়ে অপরাধীর সুনামকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

‘নারীর নিরাপত্তা ছাড়া সমতা নয়’ বিবৃতির শেষাংশে প্রকৃত নারী-পুরুষ সমতার সংজ্ঞা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পিউ বলেন, "নারীর শরীর, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণাঙ্গ সম্মান ও নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমাজে প্রকৃত সমতা আসতে পারে না।"

পোস্টটি প্রকাশের কিছু সময় পর ফ্লোরেন্স পিউ আরেকটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে অভিযোগ করেন, তাঁর পোস্টটির পৌঁছানো হঠাৎ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং অনেকেই সেটি দেখতে পাচ্ছিলেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলার কারণেই কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে সেন্সর বা শেডোব্যান করার চেষ্টা চলছে? অবশ্য পরবর্তী সময়ে পোস্টটি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত হয়। উল্লেখ্য, অস্কারমনোনীত এই অভিনেত্রী এর আগেও বিশ্বজুড়ে নারী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বারবার প্রকাশ্যে সোচ্চার হয়েছেন।