১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৫:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে যা জানালেন দীনেশ ত্রিবেদী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-৩০ ১৪:১২:৫৪
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে যা জানালেন দীনেশ ত্রিবেদী ছবি: সংগৃহীত


সফর ১২০ শতাংশ নিশ্চিত, তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ভারতীয় হাইকমিশনারের

        বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে উভয় দেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল থাকলেও এই সফর নিয়ে কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সফরটি শতভাগ নিশ্চিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বার্থে শীর্ষ বৈঠকের আগে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করাই প্রধান লক্ষ্য।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন গঠিত সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী স্পষ্ট করেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা মাস নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ১২০ শতাংশ যে ভিজিটটি অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিপাক্ষিক সফরের বিষয়ে তাড়াহুড়ো করলে কোনো পক্ষেরই লাভ নেই। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন বৈঠকের পূর্বে যাবতীয় প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়।"

রাজনৈতিক আগ্রহ ও কৌতূহল প্রকাশ করে তিনি রসিকতার সুরে আরও বলেন, "ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই এটি আগামীকালই হয়ে যাক। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত কেন আমরা অপেক্ষা করব? এটি আগামীকালও হতে পারে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, তারিখ কিংবা নির্দিষ্ট মাস এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে সফরটি নিশ্চিতভাবেই হবে।"

ঢাকা ও নতুন দিল্লির মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, দুই দেশের সরকারপ্রধান শীর্ষ বৈঠকে মুখোমুখি বসলে বিদ্যমান সব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের সুরাহা সম্ভব। তিনি বলেন, "দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে বাণিজ্য, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো স্থান পেতে পারে। এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে উভয় দেশের আমলা ও কর্মকর্তাদের ব্যাপক কাজ করতে হবে, যাতে বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসে। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে আমি শতভাগ কাজ করব।"

একই ব্রিফিংয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে বৈঠক নিয়ে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বৈঠকটিকে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে উভয় দেশ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করে যাবে।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আধুনিকীকরণ ও স্বাধীনতাভিত্তিক স্মারক সংস্কার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ম্যুরাল অপসারণ বা পরিবর্তনের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, "সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ম্যুরালে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য না এসে বিভ্রান্তিকর ও ভুল সংবাদ উপস্থাপন করা হচ্ছে।"