১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩০:৫৩ অপরাহ্ন


২৫ কোটি বাজেটে ৩১০ কোটি আয়! নতুন ইতিহাস গড়ল দক্ষিণি সিনেমা ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’!
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-১৯ ১৩:১৬:১২
২৫ কোটি বাজেটে ৩১০ কোটি আয়! নতুন ইতিহাস গড়ল দক্ষিণি সিনেমা ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’! ছবি: সংগৃহীত


নিভিন পাউলি ও মামিথা বাইজুর ব্লকবাস্টার হিট; ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’-কে টপকে মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির সর্বকালের সেরা আয়ের রেকর্ড

        স্বল্প বাজেটে নির্মিত সিনেমা যে বক্স অফিসে কতটা বড় অলৌকিক সাফল্য ঘটাতে পারে, তার এক নতুন উদাহরণ তৈরি হলো মালয়ালম চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে। নিভিন পাউলি ও ‘প্রেমালু’খ্যাত তরুণী অভিনেত্রী মামিথা বাইজু অভিনীত রোমান্টিক-কমেডি চলচ্চিত্র ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে অভূতপূর্ব ইতিহাস গড়েছে। মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটে তৈরি সিনেমাটি মুক্তির ২৬তম দিনেই বিশ্বব্যাপী ৩১০ কোটি রুপির বিপুল আয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

এর মধ্য দিয়ে ছবিটি পূর্বের রেকর্ডধারী মালয়ালম মেগা-হিট সিনেমা ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’-কে পেছনে ফেলে মালয়ালম ভাষার চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার শীর্ষ স্থানটি একচ্ছত্রভাবে দখল করে নিয়েছে।

ভারতীয় বক্স অফিস ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘স্যাকনিল্ক’-এর অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতে ছবিটির নেট আয় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ রুপি। এদিন সারা দেশের ১ হাজার ৪১২টি প্রদর্শনীতে বা শো-তে ছবিটির গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল প্রায় ২৪.৭ শতাংশ। যার ফলে কেবল ভারতেই সিনেমাটির মোট নিট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ রুপি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বা বিদেশের বাজার থেকে আয় এসেছে আরও ১৩৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি। সব মিলিয়ে ২৬ দিন শেষে বিশ্বজুড়ে ছবিটির সর্বমোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩১০ কোটি ৫৫ লাখ রুপি।

মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসেও সিনেমাটির টিকিট বিক্রির গতি সামান্যতম কমেনি। গত ১১ সেপ্টেম্বর ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি সংগ্রহের পরদিন শনিবারে আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। এরপর রোববার ছুটির দিনে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৬০ লাখ রুপি এবং সোম ও মঙ্গলবার যথাক্রমে ২ কোটি ১০ লাখ ও ১ কোটি ৪০ লাখ রুপি আয় যোগ হয় এর ঝুলিতে।

এর আগে মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ৫২ কোটি ৩০ লাখ, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪৯ কোটি ৮৫ লাখ এবং তৃতীয় সপ্তাহে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ রুপি বাণিজ্য করেছিল ছবিটি। প্রেক্ষাগৃহে সর্বস্তরের দর্শকের অভূতপূর্ব সাড়া অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন এর আয়ের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

ছবিটির এই সর্বকালের সেরা সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি ছিল এর মূল মালয়ালম সংস্করণ, যা থেকে একা এসেছে ১৪৩ কোটি ২৫ লাখ রুপি। এছাড়া ডাবকৃত তেলুগু সংস্করণ থেকে ৩ কোটি ৫২ লাখ এবং তামিল সংস্করণ থেকে ৩ কোটি ১৩ লাখ রুপি আয় এসেছে।

উল্লেখ্য, মুক্তির ২৪তম দিনেই বিশ্বব্যাপী ৩০৪ কোটি ৯৫ লাখ রুপি আয় করে ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’-এর (যার লাইফটাইম আয় ছিল ৩০১ কোটি ৪১ লাখ রুপি) রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল ছবিটি। বর্তমানে মালয়ালম সিনেমার সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’। প্রায় ২৬২ কোটি রুপি আয় নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মেগাস্টার মোহনলালের ‘এল ২: এমপুরান’, প্রায় ২৩৫ কোটি রুপি আয় নিয়ে চতুর্থ স্থানে ‘ভাঝা ২: বায়োপিক অব আ বিলিয়ন ব্রোস’ এবং প্রায় ২৩২ কোটি রুপি আয় নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে ‘থুদারুম’।

২৫ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত হওয়ায় বিনিয়োগের তুলনায় বহুগুণ বেশি মুনাফা তুলে নিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে এটি নায়ক নিভিন পাউলির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় একক বক্স অফিস সাফল্য।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিভিন পাউলি বলেন, "এটি আমার পেশাগত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও স্মরণীয় সাফল্য। এই রেকর্ড গড়া সাফল্যের পূর্ণ কৃতিত্ব পরিচালক গিরিশ এ ডি এবং পুরো টিমের। বয়সের ফারাক থাকা একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প, সাবলীল হাস্যরস এবং দুর্দান্ত নির্মাণশৈলী দর্শক খুব সুন্দরভাবে গ্রহণ করেছেন।"

তিনি আরও যোগ করেন, "যেকোনো সিনেমাকে ব্লকেব্লাস্টার করতে পারিবারিক দর্শকের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবার যখন দল বেঁধে সিনেমা হলে আসে, তখন বক্স অফিসের রূপ পরিবর্তন হয়ে যায়।"

গিরিশ এ ডি পরিচালিত ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’ সিনেমার মূল কাহিনি অ্যাশলি নামের এক উচ্ছ্বল তরুণী ও তাঁর বয়সে বড় প্রতিবেশী তরুণ জাস্টিনকে ঘিরে। দুজনের বয়সের বিশাল ব্যবধানের কারণে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন, রোমাঞ্চ, বিনোদন ও পারিবারিক সামাজিক সম্পর্কের জটিলতা হাস্যরসের মাধ্যমে গল্পে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

নিভিন পাউলি ও মামিথা বাইজু ছাড়া ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন সংগীত প্রতাপ, সুরেশ কৃষ্ণ, বিনয় ফোর্ট, রোশন শানাভাস ও শ্যাম মোহন। যৌথভাবে এটি প্রযোজনা করেছেন দিলীশ পোথান, ফাহাদ ফাসিল ও শ্যাম পুষ্করণ। 'ভাবনা স্টুডিওস'-এর ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির সুর ও মিউজিক পরিচালনা করেছেন বিষ্ণু বিজয়, চিত্রগ্রহণে ছিলেন অজমল সাবু এবং নিখুঁত সম্পাদনায় কাজ করেছেন আকাশ জোসেফ ভার্গিস।

চতুর্থ সপ্তাহের শেষেই ৩১০ কোটি রুপি ছোঁয়া এই পারিবারিক ড্রামাটি মালয়ালম চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যেমন সোনালী অধ্যায় রচনা করেছে, তেমনই বক্স অফিসে নিভিন পাউলির রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছে।