১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:৫১:০১ অপরাহ্ন


একনেকে উঠছে ৬৫ হাজার কোটি টাকার ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প
জাতীয় ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-১৬ ১৩:৪৭:২৬
একনেকে উঠছে ৬৫ হাজার কোটি টাকার ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প ছবি: সংগৃহীত


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভা; সবচেয়ে বড় ‘মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট’ ও বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্প

        অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের মেয়াদে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যয়ের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের অবকাঠামো, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতের গতি বৃদ্ধি করতে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সর্বমোট ৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের ১৬টি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।

রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, একনেকে অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে যোগান দেওয়া হবে ২৫ হাজার ২৭৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। বৈদেশিক সাহায্য বা প্রকল্প ঋণ হিসেবে আসবে ৪০ হাজার ১৬৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং বাকি ৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বাস্তবায়নকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থা নিজ তহবিল থেকে যোগান দেবে। ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে ১২টি একেবারেই নতুন এবং ৪টি সংশোধিত প্রকল্প।

আজকের একনেক সভার তালিকায় ব্যয়ের দিক থেকে সর্ববৃহৎ প্রকল্প হচ্ছে ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট’। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট মেয়াদে মেট্রোরেলের এই নতুন রুটটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে।

দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে একনেক তালিকায় রয়েছে দুটি মেগা প্রকল্প। এর মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা (যার মূল ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা)। অন্যদিকে ‘নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর’ রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন বা ট্র্যাকশন চালুর প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া’ প্রকল্পে ৪ হাজার ৩৯ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ৩৯৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়াও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (২য় পর্যায়) প্রকল্পে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, খুলনা নৌ অঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণে ৩৭৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২-এ ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুই প্রকল্পে যথাক্রমে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ ও ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। বাকি সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন, মনপুরায় বিদ্যুৎ বিতরণ ও ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প অন্যতম। তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষায় নতুন একটি ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার প্রকল্পও একনেকে উঠছে। ৫০ কোটি টাকার কম খরচের আরও ১৫টি ছোট প্রকল্প একনেককে অবহিত করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আজ প্রস্তাবিত ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন লাভ করলে তা হবে চলতি সরকারের আমলের একক সভায় অর্থ বরাদ্দের দিক থেকে সবচেয়ে বড় একনেক সভা।