১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:৩৪:০৮ অপরাহ্ন


দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব: রাষ্ট্রপতি
জাতীয় ও বিশেষ প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-২৭ ১৭:০০:২৪
দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর I ছবি: সংগৃহীত


বঙ্গভবনের প্রথম দরবারে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার তাগিদ দিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

      দল ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলনিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার বার্তা


বঙ্গভবনের দরবারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন:

“রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাব।”

তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তাঁর কারো প্রতি কোনো রাগ-অনুরাগ থাকবে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করে জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

                 রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারের প্রধান বিষয়সংক্ষেপ
   -----------------------------------------------------------------
   ১. মূল অবস্থান            : সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন
   ২. বঙ্গভবনের মর্যাদা  : রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে অক্ষুণ্ণ রাখা
   ৩. গোপনীয়তা রক্ষা   : রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হতে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন
   ৪. সম্পদের ব্যবহার    : অপচয় রোধ করে জনগণের অর্থের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার


বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি নির্দেশনা


বঙ্গভবনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে এর মর্যাদা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রমে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং সরকারি ব্যয়ে অপচয় রোধের ওপর বিশেষ তাগিদ দেন।

বিষয়াশয়রাষ্ট্রপতির প্রধান দিকনির্দেশনা
রাষ্ট্রীয় সম্পদঅপচয় বন্ধ করে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তারাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় দৈনন্দিন সব সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে পরিচালনা করা।
পরিবেশ ও সম্পর্কবঙ্গভবনকে একটি ‘পরিবার’ হিসেবে গণ্য করে মিলেমিশে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ।
দরবারে বক্তব্যকালে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং পূর্ববর্তী সকল রাষ্ট্রপতির অবদান ও ত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি।