১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০২:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন


ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা বাতিল করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে: এবি পার্টি
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-২০ ১৬:৩৭:৫০
ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা বাতিল করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে: এবি পার্টি ছবি: সংগৃহীত


অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬ পুনর্বহালের দাবিতে এবি পার্টির সংবাদ সম্মেলন ও ৭ দফা প্রস্তাবনা

      অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ বিষয়ক নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা বাতিল করে সরকার সাধারণ জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ওষুধ সিন্ডিকেটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

‘জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে সিন্ডিকেটের সুযোগ’


সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশে প্রয়োজনীয় ওষুধের ৯৮ শতাংশ উৎপাদিত হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় জনস্বার্থ রক্ষায় একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

নীতিমালা বাতিলের প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন:

“স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের পরিপত্রে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ প্রণয়ন করে তালিকাটি ২৯৭টিতে উন্নীত করে। কিন্তু বর্তমান সরকার গত ৩ আগস্ট এসব জনবান্ধব নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো কাঠামোয় ফিরে গেছে। এর মাধ্যমে সরকার জনগণের পকেটের ওপর বাড়তি চাপের পথ তৈরি করেছে, যা সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, একই জেনেরিকের ওষুধ ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বিক্রি হওয়ায় রোগীরা চরম বিভ্রান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের প্রভাবিত করতে ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনৈতিক উপহার সংস্কৃতি বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি।

                   ওষুধের মূল্য নীতি সংক্রান্ত মূল তথ্য
   -----------------------------------------------------------------
   ১. ১৯৯৪ সালের তালিকা    : ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ
   ২. ২০২৬ সালের নতুন নীতি : ২৯৭টি ওষুধে উন্নীত ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
   ৩. সরকারি পদক্ষেপ        : ৩ আগস্ট ২০২৬ নীতি বাতিল করে পুরোনো ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন
   ৪. এবি পার্টির মূল দাবি   : বাতিলকৃত ২০২৬ নীতি পুনর্বহাল ও ৭ দফা বাস্তবায়ন


জনস্বার্থে এবি পার্টির ৭ দফা দাবি


সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির পক্ষ থেকে ওষুধ খাতের সংস্কার ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় ৭ দফা প্রস্তাবনা পেশ করা হয়:

১. বাতিলকৃত ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ ও ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ অনতিবিলম্বে পুনর্বহাল করা।

২. অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কার্যকর মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা।

৩. একই জেনেরিকের ওষুধের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ব্র্যান্ড বৈচিত্র্য ও ব্র্যান্ডভিত্তিক মূল্যবৈষম্য কমানো।

৪. চিকিৎসকদের প্রভাবিত করতে ওষুধ কোম্পানিগুলোর উপহার ও অনৈতিক প্রণোদনা সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ।

৫. সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সহজলভ্য নিশ্চিত করা।

৬. দেশীয় ওষুধশিল্পের সক্ষমতা ও নতুন ওষুধ উদ্ভাবন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে দায়িত্বশীল প্রচারের সুযোগ তৈরি করা।

৭. এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী সময়ে বিদেশি বাজার ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে দেশীয় ওষুধশিল্পকে সুরক্ষা দিতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা।

সংবাদ সম্মেলনের সারসংক্ষেপবিবরণ
আয়োজকআমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)
বক্তব্য প্রদানকারীব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ (সাধারণ সম্পাদক)
প্রধান উত্থাপিত বিষয়অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ২০২৬ বাতিল
অন্যান্য উপস্থিত নেতৃত্বব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান প্রমুখ
ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওষুধ কোনো সাধারণ ব্যবসা পণ্য নয়, এটি জীবন রক্ষার প্রধান উপকরণ। তাই ওষুধনীতির মূল কেন্দ্রে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।