১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:২৩:৩৮ পূর্বাহ্ন


তুরস্ক–সৌদি–পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে পারে মিসর: এরদোয়ান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-১৬ ১৬:৩৯:৩০
তুরস্ক–সৌদি–পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে পারে মিসর: এরদোয়ান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান I ছবি: সংগৃহীত


'মক্কা চুক্তি'তে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত তুর্কি প্রেসিডেন্টের; আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও এফ-৩৫ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

      তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে উত্তর আফ্রিকার প্রভাবশালী দেশ মিসর যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে আরও বন্ধুভাবাপন্ন দেশকে এই প্রতিরক্ষা জোটে অন্তর্ভুক্ত করার দুয়ার খোলা রাখা হয়েছে।

আল-জাজিরা আরবির বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘আল মুকাবালা’তে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এসব কথা বলেন।

‘মক্কা চুক্তি’ ও ন্যাটোর আদলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা


গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রিপক্ষীয় এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

এই চুক্তির প্রধান শর্ত হলো—স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর কোনো বহিরাগত সশস্ত্র হামলা হলে, তা বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে এবং যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সামরিক বিশ্লেষকেরা একে সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।

চুক্তি সম্পর্কে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন:

“এই চুক্তি পুরো বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্যরা তার পাশে দাঁড়াবে।”

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয় এবং এটিকে সরাসরি ন্যাটোর সমতুল্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

আঞ্চলিক সংকট: সিরিয়া, গাজা, লেবানন ও হরমুজ প্রণালি


সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন এরদোয়ান। হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে তুরস্কের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বন্ধ রাখা কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

‘মক্কা চুক্তি’ ও আঞ্চলিক ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থানবিস্তারিত তথ্য
চুক্তির নাম ও তারিখমক্কা চুক্তি (স্বাক্ষর: ৭ আগস্ট, ২০২৬)
প্রাথমিক স্বাক্ষরকারী দেশসমূহতুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান
সম্ভাব্য নতুন সদস্যমিসর
প্রধান সামরিক ধারাএক দেশে হামলা মানে সব দেশে হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে
ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্যমধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য ও পারস্পরিক প্রতিরোধ নিশ্চিতকরণ
  • গাজা ও লেবানন: গাজাবাসীকে আঙ্কারা কখনো একা ছেড়ে যাবে না উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, হামাস নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেও ইসরায়েল একপক্ষীয়ভাবে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আঙ্কারা সফরে এই যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

  • সিরিয়া ও সুদান: সিরিয়ায় স্থায়িত্ব ফেরাতে তুরস্কের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এরদোয়ান জানান, কুর্দিদের অধিকার রক্ষা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি শিগগিরই সিরিয়া সফরের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি সুদান ও লিবিয়াকেও সব ধরনের কূটনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক।

ইইউ সদস্যপদ ও মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান


ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ লাভ নিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইইউ তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না। তাই এটি এখন আর আঙ্কারার প্রধান অগ্রাধিকার নয়, বরং এর ফলে ইউরোপ নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এরদোয়ান। রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ (S-400) আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ প্রকল্প থেকে বাদ দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছেন এবং তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন এরদোয়ান।